হাবিবুর রহমান, কলারোয়া থেকে: কলারোয়া-সরসকাটি সড়কটির বেহাল দশায় যেন কাটছে না। একদিকে সংস্কার করতে করতে আরেক দিকে ভেঙেচুরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি।
উপজেলা সদর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাথে যে সকল সড়ক রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম এই সড়কটি। কলারোয়া গরুর হাট মোড় এলাকা থেকে ১২ কিলোমিটার। সড়কটির পৌরসভার আওতাধীন কিছু অংশ সম্প্রতি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বাকি অংশ পড়ে রয়েছে আগের সেই ভাঙা অবস্থায়। গরু হাট মোড় থেকে জালালাবাদ পেরিয়ে হাবিব কলেজ পর্যন্ত সড়কটির অংশ সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছে। তবে আফলাজের মোড় এলাকার পৌরসভাধীন অবশিষ্ট অংশ এখনও গভীর গর্তে পরিপূর্ণ। এর চেয়েও আরো ভয়াবহ অবস্থা বামনখালী এলাকায় এ সড়কের অংশে। সেখান রাস্তাটি শুধু ভেঙে-ই যায়নি, বরং বড় ও গভীর গর্তে রীতি মত যানবাহন চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। সোমবার দুপুরের দিকে বালিবাহী একটি ট্রাক রাস্তার ওই গর্ত এলাকা পার হতে গিয়ে ট্রাকের পিছনের চাকার বডি ভেঙে আটকে যায়। এসময় দুই পার্শ্বে অপেক্ষার প্রহর গোনে যানবাহনগুলো। সেখানকার অবস্থা এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে ছোটোখাটো যানবাহনও ভাঙা স্থান দিয়ে আর পার হতে পারছে না। বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে কোন রকম পার হতে হচ্ছে। সেখানে কিছু ইট দিয়ে সাময়িক সংকট কাটানোর ব্যবস্থা নেয়া হলেও কোন উপকার যেন হচ্ছে না। রাস্তার মাঝখানে গভীর গর্তের পানিতে মাছ শিকার করার মতো অবস্থায় রূপ নিয়েছে। সেখান থেকে পার হয়ে বসন্তপুর পর্যান্ত কয়েক স্থানে রাস্তার পিচ উঠে ভেঙে গিয়েছে। আর একপাশের রাস্তা তো নিচু হয়ে গিয়েছিল আরো অনেক আগেই। বসন্তপুর পেরিয়ে গাজনা মোড় এলাকা পর্যন্ত এ সড়কটির মাঝে মধ্যে ভাঙাচুরা তো আছেই, তবে সরষকাটি বাজার পর্যন্ত রাস্তার অর্ধেক ভেঙে প্রায় তলিয়ে গিয়েছে । সেখানে কোনরকম ইট-খোয়া দিয়ে সাময়িক যান চলাচল করার ব্যবস্থা নেয়া হলেও রাস্তার মাঝখান থেকে ২ফুটের মতো উঁচুনিচুর কারণে ব্যাহত হচ্ছে চলাচল। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে প্রতিনিয়ত আরো ভেঙেচুরে যাচ্ছে সেখানে। পিচ ঢালা রাস্তার পিচ উঠে নীচের ইট-খোয়ার পর্যান্ত অস্তিত্ব¡ নেই। চলমান বর্ষা মৌসুমে এ সড়কটির বেহাল দশা আরো সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। তার সাথে যোগ হয়েছে এ সড়কের পাশে অবস্থিত ৩টি ইট ভাটার কাদা মাটি রাস্তায় পড়ে সেখানে যেমন রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে তেমনি দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায়-ই। রাস্তায় ট্রাক আটকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ হয়ে যায় সেখানকার যান চলাচল। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা ও কার্যত উদ্যোগ চোখে পড়ে না, বাস্তাবিক স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায়।এ সড়কের ভয়াবহ কয়েকটি বেহাল স্থানের অতিদ্রæত সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির সংস্কার করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
