ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা পৌরসভার ইটাগাছা মানিকতলা টু বটতলা সড়কের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুর রাজ্জাক সিডিউল না মেনে রাস্তার কাজে নিম্ন মানের মালামাল ব্যবহার করছেন বলে জানান স্থানীয়রা। উল্লেখ্য, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মানিকতলা টু বটতলা সড়কের (রিহ্যাবিটেশন অফ ডিসি রোড ওয়ার্ক) পূর্ণ সংস্কার কাজের জন্য ৬শ’ ৫০মিটার রাস্তা ২৬ লাখ ৬০ হাজার ৭শ’ ৩১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু রাস্তার কাজে দুর্নীতি হচ্ছে বলে ইটাগাছা এলাকার গাজী বিপ্লব জানান, ‘রাস্তার কাজের যে কার্যবিবরণী টানানো হয়েছে সেখান কাজের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। কাজে দুর্নীতি আছে বলেই এমন অসম্পূর্ণ কার্যবিবরণী টানানো হয়েছে’। ওই এলাকার আবু হাসান বলেন, ‘রাস্তায় অত্যন্ত নিম্ন মানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এসে কাজ পরিদর্শন করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে’।

ইটাগাছা এলাকার মনিরুল ইসলাম জানান, ‘রাস্তায় বেড না করে পুরাতন মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের সিডিউলে উল্লেখ করা হয়, পুরাতন রাস্তার ৭৫ মিলিমিটার ডিপ করে নীচে বেড করতে হবে। কিন্ত দেখা গেছে, তা না করে পুরাতন গারবেজ (আবর্জনা) ব্যবহার করা হয়েছে। ৩ইঞ্চি কমপ্যাক্ট করতে বলা হলেও দেড় ইঞ্চি করা হয়েছে। রাস্তার প্রশস্ত বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মাপের। ১নং পিকেট ইট ব্যবহারের পরিবর্তে নি¤œ মানের (রেইন স্পট ইট) আমা প্রকৃতির ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ওই কাজের ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পৌরসভার ইঞ্জি. শিমুল আমাকে বলেছে মেশিন দিয়ে রাস্তার পিচ খুঁড়ে বেড করে রেজিং করার পর ৩ইঞ্চি বেড করে রুলার করতে হবে। ইট কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি গিয়ে ইট দেখে এসেছিলাম এবং ইঞ্জিনিয়াররা কিনে এনেছে। রেজিং, বেড এবং কম্প্যাক্টের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এসব কিছু জানি না। পৌরসভার ইঞ্জি. সাগর দেবনাথ ও আকতারুজ্জামন তপু সব জানে। কাজের সাইট দেখাশোনা করছেন কি’না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়াররা দেখাশোনা করে’। এ বিষয়ে পৌরসভার ইঞ্জি. সাগর দেবনাথ বলেন, আমিসহ কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার দুই তিন দিন আগে সড়কের কাজ পরিদর্শন করেছি। সব কিছু ঠিকঠাক আছে। এলজিডি’তে ইটের স্যাম্পল পাঠিয়েছিলাম রেজাল্ট ভালো আসায় রাস্তার মেকাডামের কাজ করা হচ্ছে’। এমতাবস্থায় রাস্তাটির কাজের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসকসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
