তালা প্রতিনিধি : তালা উপজেলার ইসলামকাটী এলাকায় বহুলালোচিত চল্লিশা বিলের কালভার্টের মুখ বেঁধে মাছ চাষ করায় পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার এমন পরিস্থিতিতে ফের সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঘের মালিক মঞ্জুর চেয়ারম্যান। এ নিয়ে এলাকা বাসী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ সেনের নিকট অভিযোগ ও সরেজমিন দেখিয়ে নিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কোন সমাধান না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এলাকা বাসীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, তালা উপজেলার ইসলামকাটী ইউনিয়নের কাজিডাঙ্গা, ভবানীপুর, ঘোনা, নারায়নপুর, ঢেমশাখোলা, গোনডাঙ্গাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চল্লিশা বিলের পানি নিষ্কাশন হয় দুটি কালভার্ট দিয়ে। যার অবস্থান যথাক্রমে কাজিডাঙ্গা ও গোনডাঙ্গা এলাকায়। চলতি বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এ দুটি কালভার্ট। দুটি কালভার্ট থাকলেও দীর্ঘ দিন যাবৎ যশোরের কেশবপুর এলাকার মঞ্জুর চেয়ারম্যান বিলের প্রায় ১৮ শ’ বিঘা জমির ইজারা নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করে আসছে। মাছ চাষের সুবিধার্থে ঘের মালিক চল্লিশা বিলের সরকারি কালভার্ট দু’টির মুখ বালুর বস্তা দিয়ে আটকে দিয়েছেন। সমস্যার শুরু এখান থেকেই। এলাকাবাসী জানায়, দু’টি কালভার্টের একটি দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি চল্লিশা বিলের মধ্যে দিয়ে নাউভাঙ্গার ভেতর দিয়ে ঘোনা হয়ে গোপালপুর খালের উপর দিয়ে কপোতাক্ষ নদে নিমজ্জিত হয়। অপর কালভার্টটি দিয়ে পানি গোনডাঙ্গা হয়ে ঢেমশাখোলা ও ইসলামকাটীর মধ্য দিয়ে সরাসরি কপোতাক্ষ নদে নিষ্কাশিত হয়। তবে দীর্ঘ দিন যাবৎ কালভার্ট দুটির মুখ বন্ধ করে রাখায় চলতি বর্ষা মৌসুমের পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে ইসলামকাটী ইউনিয়নের কাজিডাঙ্গা, ভবানীপুর, ঘোনা, নারায়নপুর, ঢেমশাখোলা, গোনডাঙ্গাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রুপ নিয়েছে। এতে সেখানকার সরকারি রাস্তাসহ ফসলি জমি তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। অনেক এলাকার নিচু ঘর-বাড়ি তলিয়ে সেখানকার অধিবাসীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকা বাসী জানান, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইকবাল হোসেন যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়ম-অসংগতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানান দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। যার ধারাবাহিকতায় উপজেলার ইসলামকাটীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনে পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা জনপদের সাধারণ মানুষের।
এবিষয়ে ঘের মালিক কেশবপুরের মঞ্জুর চেয়ারম্যানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহারিত ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ইসলামকাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক সুভাষ সেন প্রতিনিধিকে বলেন, চল্লিশার বিল সব সময় জলাবদ্ধ থাকতো। জলাবদ্ধতার কারণে এখানে কোন ফসল ফলতো না। তাই এলাকা বাসী ফসল ফলানোর জন্য কেশবপুর এলাকার মঞ্জুর চেয়ারম্যানকে ধান চাষের মৌসুমে সেচ দিয়ে বিল শুকিয়ে দেওয়ার স্বার্থে লিজ দেয়। লিজ দেওয়ার কারণে এখন চল্লিশার বিলে ধান উৎপাদন হচ্ছে। কালভার্ট দুটির মুখ বন্ধ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, যারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট গণ পিটিশন করেছে তাদের ওই বিলে কোন জমি নেই।
এবিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি উপজেলায় নতুন এসেছি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
