ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় পৌর কর্তৃপক্ষের দেওয়া বন্দোবস্ত চুক্তি বাতিল করে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে শহরের প্রাণ সায়ের খাল ধারের দোকান মালিকরা। এ সময় তারা বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের দেওয়া বন্দোবস্ত চুক্তি বাতিল করে শত শত ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করা যাবে না। প্রাণ দিয়ে হলেও জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত আমরা প্রতিহত করবই। ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরা পৌরসভার জন্ম লগ্ন থেকে খাল ধারের শত শত দোকান বরাদ্দ দেওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, জেলা প্রশাসন একগুঁয়েমি করে তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত পৌরসভার ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। এতে শত শত মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। তারা আরও বলেন খাল ধারের এসব দোকান পাট খাল থেকে ২৫-৩০ ফুট দুরে থাকা সত্তে¡ও তা উচ্ছেদের কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। আমাদের দেওয়া লিজ মানিতে সাতক্ষীরা পৌরসভার তহবিল সমৃদ্ধ হয়। এখানকার পাঁচ শতাধিক দোকানের ওপর কয়েক হাজার পরিবার নির্ভরশীল। অথচ সৌন্দর্য বর্ধন ও উন্নয়নের নামে এসব ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাটিয়া ও পলাশপোল এই দুই মৌজার লিজযোগ্য জমিতে তৈরি দোকান পাটে ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। জেলা প্রশাসক ও সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য এক ও অভিন্ন মত প্রকাশ করে সম্প্রতি বলেন, পৌরসভার বন্দোবস্ত দেওয়া জমিতে তারা ব্যবসা করতে পারবেন। অথচ জেলা প্রশাসক পরে পৌর মেয়রকে রেকর্ডীয় সম্পত্তিতে অবস্থিত সব দোকানের বন্দোবস্ত বাতিল করার নির্দেশ দেন। উন্নয়নের নামে লিজ বাতিল করাকে অসদুদ্দেশ্যমূলক, অবিবেচক ও একগুঁয়েমির শামিল বলে উল্লেখ করেন তারা। সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রাণ সায়ের খাল ধার ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা অধ্যক্ষ সুকুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন লস্কর শেলী, দীনবন্ধু মিত্র, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গৌর দত্ত, কাজী আক্তার হোসেন, মোশাররফ হোসেন, সামসুদ্দিন বাবলু, শরিফুল ইসলাম খান বাবু, মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রব, মাকছুদ খান চৌধুরী, শেখ সাঈদ উদ্দিন, ডা. হাদি খান, ডা. খুরশীদ, বলাই চন্দ্র দে প্রমুখ। তবে উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জলাধার আইন অনুযায়ী খাল ধারে এভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ার বিধান নেই। তার ওপর গ্রহীতারা দুই তিনতলা ভবন তৈরি করে ব্যবসা করছেন। এজন্য তাদের বন্দোবস্ত বাতিল করতে পৌরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লেখা হয়েছে। পৌরসভা লিজ বাতিল না করলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হবে। তবে তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
