কুলিয়া প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরায় সরকারি রাস্তার জমি দখল করে ক্লিনিক নির্মাণ করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ডা: রাইছুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী জানায়, রাস্তায় পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হাজারও কোমলমতী শিক্ষার্থী এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায়। বহেরা পোস্ট অফিসের পাশে জনসেবা নামে একটি ক্লিনিকের পরপরই রাস্তার পশ্চিম দিকে ২০/২৫টি বসতবাড়ি আছে। বর্তমানে তারা পানি বন্দী হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। রাস্তার পূর্ব পাশে একটি পাকা ড্রেন আছে ড্রেনের পাশে তিনতলা বিশিষ্ট একটি ব্র্যাক প্রতিষ্ঠান। ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে ময়লা দ্রব্য ফেলা হয় ড্রেনে। সেই ময়লা আবর্জনা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে এবং এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি পোস্ট অফিসের পাশের কালভার্ট দিয়ে রওশন হাজীর বাড়ির পাশে সি.অ্যান্ড.বি রাস্তার কালভার্ট দিয়ে পূর্ব দিকের বিলে চলে যায়। কিন্তু এখানে ক্লিনিক নির্মাণ করায় রাস্তায় পানি চলাচল করতে না পেরে নিয়মিত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে পোস্ট অফিসের পাশে পানি সরানোর জায়গা বন্ধ করে জনসেবা নামে একটি ক্লিনিক নির্মাণ করায় রাস্তার পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এলাকাটি এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ক্লিনিক মালিক রাইছুজ্জামানকে অনেক বলার পরও কোনো কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। বহেরা এ.টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যায় কিন্তু আমাদের হাঁটু সমান পানিতে ভিজতে ভিজতে যেতে হচ্ছে। পানি খুব গন্ধ ও নোংরা আমরা ঠিক মত চলাচল করতে পারছি না। এই পানিতে হেঁটে আমাদের পায়ে চুলকানি রোগ সহ চর্মরোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একটু বর্ষা হলেই এখানে সবসময় হাঁটু সমান পানি থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পানি অপসারণের সুব্যবস্থা করা আহŸান জানায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে কুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা উক্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি দুই একদিনের ভিতরে ক্লিনিক মালিক রাইছুজ্জামানকে নোটিস করা হবে। তিনি আরও বলেন, পানি বন্দি করে রাখার কারও এখতিয়ার নেই। এ বিষয়ে যদি রাইছুজ্জামান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।
