গাজী আল ইমরান, শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কুলতলী খালটি উন্মুক্ত করায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় শ্যামনগর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসান খালের নেট পাটা অপসারণ করে উন্মুক্ত করে দেন। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি উন্মুক্ত করে পুনরায় নেট পাটা না দিতে সবাইকে আহবান জানান। জানা গেছে, কুলতলী খালটি স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি ১লক্ষ ২৫হাজার টাকায় স্থানীয় এক জনকে লিজ দেওয়ায় এলাকার মানুষ খালের প্রাকৃতিক উৎস থেকে বঞ্চিত হন।

এ সময় স্থানীয় জনগণ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিডিও ইয়ুথ টিমের সদস্যরা খালটি উন্মুক্ত করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন জানালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরজমিনে তদন্ত পূর্বক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এ সময় ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তদন্ত করে সরকারি জায়গা দখল পূর্বক পানি চলাচলে বিঘœ ঘটাচ্ছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তদন্ত প্রেরণ করেন। এ সময়কালে স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সিডিও ইয়ুথ টিমের সদস্যরা বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস এবং বারসিকের সহযোগিতায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে খালটি উন্মুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

সংশ্লিষ্ট সহকারী ভূমি কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন পাঠালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনস্বার্থে খালটি উন্মুক্ত করার জন্য সহকারী কমিশনারকে নির্দেশ প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সহকারী কমিশনার(ভূমি) শ্যামনগর সরজমিনে গিয়ে খালটি উন্মুক্তের মাধ্যমে ‘জাল যার জলা তার’ নিশ্চিত করেন। এ সময় শত শত এলাকাবাসী জড় হয়ে উপজেলা প্রশাসন, সিএনআরএস, বারসিক, সিডিও ইয়ুথ টিমকে ধন্যবাদ জানান। খালটি উন্মুক্তের পরে জনমুখে আনন্দের ছাপ ফুটে ওঠে। খাল উন্মুক্তের পরে এলাকার নারী পুরুষদের জাল নিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায়। তারা বলেন, আমরা আবারও এই প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে উন্মুক্তভাবে মাছ ধরতে পারব। এছাড়া মিষ্টি পানির আধার হিসেবে ব্যবহার করতে পারব। অভিযান চলাকালীন সময়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করায় একজনকে ৭ দিনের সশ্রম কারাদÐ প্রদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। অভিযান চলাকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্য, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক সহ এলাকার শত শত নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
