মীর খায়রুল আলম: দেবহাটার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র রূপসি ম্যানগ্রোভ বনের প্রথম উদ্যোক্তা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম এ বনের উন্নয়ন কাজে ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং শুরু থেকে অবদান রাখা ব্যক্তিদের নামের ফলক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় বনের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। বনটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজে দায়িত্বরতদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত হন। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তিনি বলেন, ২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কয়েক মাসপর তখনকার উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. সম গোলাম মোস্তফা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কালাচাঁদ সিংহ এবং পরবর্তী নির্বাহী অফিসার বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আ.ন.ম তরিকুল ইসলামের যৌথ প্রচেষ্টায় সদরের শীবনগর এলাকায় বেদখলি সরকারি জমি উদ্ধার করি। এরপর নদী ভাঙন রোধে প্রকল্প দিয়ে একটি বাগান সৃষ্টি করা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও খুব আন্তরিক থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে বনের পরিধি ও উন্নয়ন কাজ এগিয়ে যায়। শুরু হয় একটি লেক তৈরির কাজ। ঐ প্রকল্পের ট্যাগ অফিসার সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জিত কুমারের সহযোগিতায় সুন্দরবন থেকে চারা এনে খাঁচা পদ্ধতিতে সারি সারি গাছ রোপণ করা হয়। লেক থেকে মাটি তুলে গড়ে তোলা হয় বেড়ি বাঁধ। আগত দর্শাণার্থীদের জন্য ২ কক্ষ বিশিষ্ট বিশ্রামাগার তৈরি বরা হয়। সময় গড়ানোর সাথে সাথে গাছ গুলো বাড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে বনের পরিধি ও পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে। সে সময় মানুষ এই বনটি নজরুল চেয়ারম্যানের বন নামে চিনত। কিন্তু সেটি পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ নিয়ে নেওয়ার পর আরো উন্নয়ন হয়। এরপর সরকারি নিয়ম অনুসারে জেলা পরিষদের হাতে চলে যায় বনটি। জেলা প্রশাসকদের পাশাপাশি বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম তরিকুল ইসলাম, তহমিনা খাতুন, হাফিজ আল আসাদ, ইকবাল হোসেন এবং বর্তমান সাজিয়া আফরিন বেশ আন্তরিক হওয়ায় ম্যানগ্রোভ বনের উন্নয়ন বেড়েই চলেছে। বর্তমানে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছে রূপসি ম্যানগ্রোভ বন। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি মহল বনটি নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। সে সময় যারা অবদান রেখেছিল তাদের সবার নাম ফলক স্থাপন করা সহ স্পটটি নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনতে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
