মীর খায়রুল আলম: বর্তমান বাংলাদেশের সর্বত্র ডেঙ্গু নাম মানেই আতঙ্ক। দেশব্যাপী এই আতঙ্ক কাটাতে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে সব খানে। তারই অংশ হিসেবে দেবহাটায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, মিডিয়া কর্মী, সুশিল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিন জানান, সচ্ছ পানিতে জন্ম নেয় এডিস মশা। তাই ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব বা পানি জমে থাকে এমন জায়গা গুলো খেয়াল রাখতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কোন কিছু নেই। এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে। প্রথমত নিজের বাড়ি ও বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার করতে হবে। আশেপাশের পরিবেশে মশার বংশ বিস্তার করতে দেওয়া যাবে না। তিনি উল্লেখ করে বলেন, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের ঘোষণা প্রতিদিন ১ ঘণ্টা পরিচ্ছন্ন অভিযান যদি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে ডেঙ্গু মুক্ত সমাজ গড়া সহজ হবে। এতে করে একদিকে মশা কমে যাবে এবং অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন সুন্দর হবে আমাদের সমাজ। কোন অবস্থাতে মশার বংশ বিস্তার করতে দেওয়া যাবে না। শুধু প্রশাসন প্রতিরোধ করলে হবে না। আপনি সচেতন হন অন্যজনকে সচেতন করেন এটাই হল প্রধান কাজ। তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার কাজ করছে তাই গুজব বা অযথা কথায় কান দেবেন না। সকলে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বজায় রাখারা অনুরোধ জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল লতিফ বলেন, এডিস মশা বিশেষ করে সকালে ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। রাতে কোন এডিস মশা কামড়ায় না। সে জন্য দিনের বেলা ভালো ভাবে কাপড় জড়িয়ে রাখতে হবে। দিনের বেলা ঘুমালে মশারি টানিয়ে বা স্প্রে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে নিতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে ৫দিনের মধ্যে এই জ্বর ভালো হয়ে যায়। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কেবলমাত্র এডিস মশা অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়ায়। তাই ঈদের সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যক্তিরা যদি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকনে তাদেরকে সব সময় মশারির মধ্যে অবস্থান করার পরামর্শ দেন তিনি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে কেবলমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ ছাড়া কোন প্রকার ব্যাথানাশক ট্যাবলেট খাওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। এডিসের জীবাণু ৪ প্রকার তাই রোগীর লক্ষণ খারাপ হলে সাথে সাথে সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান। সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীনের সভাপতিতে বক্তব্য রাখেন দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) উজ্জল কুমার মৈত্র, ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল লতিফ, সরকারি খানবাহাদুর আহছানউল্লা কলেজের অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম, হাজী কেয়ামউদ্দীন মেমোরিয়াল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম, মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান, সমাজসেবা কর্মকর্তা অধীর কুমার গাইন, সমবায় কর্মকর্তা আকরাম হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল বশার, শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই রকেট, ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ আব্দুস সাত্তার, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রব লিটু, সাধারণ সম্পাদক আর.কে.বাপ্পা প্রমুখ।
