নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী খাদ্য গুদামের ১.১৪ একর জমির মধ্যে নয় শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছিলেন স্থানীয় হুমায়ুন কবির। হুমায়ূন কবিরের আগ্রাসী থাবা থেকে সরকারী জমি উদ্ধারের জন্য খাদ্য গুদামের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে নকিপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ভেটখালি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বুলবুল আদালতের শরণাপন্ন হন। এই সরকারি জমি রক্ষা চেষ্টাই কাল হচ্ছে এই গুদাম কর্মকর্তা ওসি আমিনুর রহমানের। এবার তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে রড, সিমেন্ট চুরির অভিযোগ। শ্যামনগরের নকিপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেটখালি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বুলবুল জানান, ভেটখালি খাদ্য গুদামের সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় প্রতিকারের প্রার্থনা করি। আদালত তর্কিত জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু ভুমিদস্যু হুমায়ুন কবির আদালতের আদেশ অমান্য করে সরকারি জমিতে স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করে। পুনরায় আদালতের কাছে প্রতিকারের প্রার্থনা করলে আদালত উক্ত জমিতে প্রবেশ বারিত করার আদেশ প্রদান করেন। অবশেষে দখল চেষ্টাকারী হুমায়ুন কবির সরকারী জমিতে স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। আদালতে সে উক্ত আদেশ স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেও ব্যর্থ হয়।
তিনি আরও জানান, হুমায়ুন কবির গত ৩০ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের ৪৩৫/৪৩৯ এ ধারা মতে রিভিশন করলে আদালত খাদ্য বিভাগের পক্ষে ওসি আমিনুরের পিটিশন ৮৮০/১৯ নং মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এই সুযোগে কয়েক শত শ্রমিক নিয়োগ করে সরকারী খাদ্যগুদামের জমিতে পাঁকা দোকান ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে হুমায়ুন কবির। আমি যেন আর আদালতের শরণাপন্ন না হতে পারি সেজন্য দোকানের পুরাতন কাঠ, রড ও সিমেন্ট ভাড়াটিয়া চোর দিয়ে চুরি করানোর ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে সম্মানহানির চেষ্টা করছে।
আমি যতক্ষণ ভেটখালী খাদ্য গুদামের দায়িত্বে আছি ততক্ষণ সরকারী জমি উদ্ধারে কাজ করে যাবো জানিয়ে গুদাম কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বুলবুল বলেন, সরকারী জমি উদ্ধারে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সে কারণে একাধিকবার আগেও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করেছে। আমার বিরুদ্ধে মামলাও দিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল আমাকে নিবৃত করা। তবেই সরকারি জমিটি নির্বিঘেœ দখল করতে পারবে। সরকারি এ জমিটি উদ্ধারের জন্য প্রশাসন ও সুশীল সমাজের সহযোগীতা কামনা করছি।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগরের মানিকখালি গ্রামের হুমায়ুন কবির বলেন, আমার পৈত্তিক জমিতে দোকানঘর নির্মান করছি সেখানে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা আমিনুর রহমান। এটা নিয়ে মামলাও হয়েছে। আমি যেন দোকান ঘর নির্মাণ করতে না পারি সে কারণে ভাড়াটিয়াদের দিয়ে দোকানের কাঠ, রড, সিমেন্ট চুরি করিয়েছে। গুদাম কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ নিয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) আনিসুর রহমান বলেন, গুদাম কর্মকর্তা আমিনুর রহমান সাতক্ষীরা অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করলে আদালত স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে হুমায়ুন কবিরের আবেদনে জজ আদালতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আদালতের নির্দেশে আগে জমিতে স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, শনিবার হুমায়ুন কবির গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনেছেন। ঘটনাটির তদন্ত করা হচ্ছে।
