ডেস্ক রিপোর্ট: শ্যামনগরে পৃথক ঘটনায় দুই মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষিত ও এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক পৃথক মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই যুবককে আটক করেছে। আটক দুই যুবক হলো- আবাদচন্ডীপুর (চুনা) গ্রামে শহীদ গাজীর ছেলে রাসেল গাজী (১৯) এবং উত্তর আটুলিয়া গ্রামে ইমান আলী গাজীর ছেলে মফিজুল ইসলাম গাজী (২২)। মামলা সূত্র জানা যায়, আবাদচন্ডীপুর (চুনা) গ্রামে খলিল গাজীর ছেলে সালাউদ্দীন বাপ্পি টেংড়াখালী গ্রামে আব্দুল আজিজ গাজীর মেয়ে ও সুন্দরবন জহিরনগর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে গত ১৪ জুলাই সকাল ১০ টার দিকে সালাউদ্দীন বাপ্পি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসা হতে কৌশলে বাইরে ডেকে নিয়ে অপর বন্ধুদের সহায়তায় জোর পূর্বক অপহরণ করে। ওই দিন রাতে সালাউদ্দীন বাপ্পি তার বন্ধু আমিন গাজীর বাড়িতে ওই ছাত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। কৌশলে ওই ছাত্রী বাড়িতে এসে পিতা-মাতাকে বিষয়টি অবহিত করার পরে তার চাচা শাহিন গাজী সালাউদ্দীন বাপ্পি সহ ৪ জনকে আসামি করে শ্যামনগর থানায় ১৯ নং মামলা করে।
অপর দিকে গত ১৪ জুলাই রাত ৯ টার দিকে উত্তর আটুলিয়া গ্রামে আব্দুস ছাত্তার গাজীর শিশু কন্যাকে নিজ ঘরে গুম অবস্থায় একই গ্রামে ইমান আলী গাজীর ছেলে মফিজুল গাজী (২৭) ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুর পিতা আব্দুস ছাত্তার গাজী শ্যামনগর থানায় মফিজুল গাজীর বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় ২০ নং মামলা করে। পুলিশ মফিজুলকে আটক করেছে। অপর এক ঘটনায় দুরমুজখালী গ্রামে খলিল কারিকরের মেয়ে নুরনগর মহিলা মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে গত ১৫ জুলাই সকাল ৮ টার দিকে মাদ্রাসা হতে তার খালাতো ভাই কুলতলী গ্রামে অফেজ উদ্দীন গাজীর ছেলে মহিউদ্দীন অপর বন্ধু একই গ্রামে আব্বাস গাজীর ছেলে আমিনুরের সহায়তায় জোর পূর্বক অপহরণ করে। ওই দিন রাতে সাতক্ষীরা এক বন্ধুর বাড়িতে আটকে রেখে পালাক্রমে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অপহরণকরীরা তাকে একই রাতে মেয়ের বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ওই ছাত্রীকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর রহমান জানান, প্রাথমিক ভাবে ওই ছাত্রীর ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ছাত্রীর পিতা খলিল কারিকর জানান এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান মোল্লা বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
