কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বাক্ষরিত নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা সত্তে¡ও চাকরি নামের সোনার হরিণের দেখা পেলেন না এতিম হতদরিদ্র গোলাম হোসেন। কয়েকদিন চাকরি করার পরপরই দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরীর পদটি ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধ পন্থায় জবরদখল করে নিয়েছেন নিয়োগ পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অর্জনকারী আল আমিন নামে এক ব্যক্তি। এঘটনার যথাযথ আইনগত প্রতিকার ও চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নলতা ইউনিয়নের সন্ন্যাসীর চক গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে ভুক্তভোগী গোলাম হোসেন।
সোমবার সকাল ১০ কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গোলাম হোসেন জানান, ২০১৪ সালে সন্ন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। ওই পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান লাভ করেন সন্ন্যাসীর চক গ্রামের মোক্তার আলী গাজী ছেলে আল আমিন। বিধি মোতাবেক তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত ২৪/০৭/১৪ তারিখে ৩৮.০০.২০.১৫০০০০ স্মারকে উপজেলার ১৪ টি বিদ্যালয়ের জন্য ১৪ জন দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা করেন। ১৪ জনের ওই তালিকায় তার নাম তৃতীয় ক্রমিকে রয়েছে। তিনি যথাসময়ে যোগদান করতে গেলে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকেন আল আমিন ও তার সহযোগীরা। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কয়েকদিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একপর্যায়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সহায়তায় আল আমিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী তার বিধবা মা ও তাকে আটকে রেখে বেধড়ক মারপিট করেন। এমনকি এলাকা ছেড়ে না গেলে গুম, খুন, মারপিট ও নাশকতার মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয়। জীবন বাঁচাতে তিনি বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়েন। আল আমিন প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক স্কুলে যোগদান করতে যান। আল আমিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিবানী রানী স্বর্ণকার গত ১৫/০১/২০১৪ তারিখে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললেও বড় অংকের উৎকোচের বিনিময়ে কোন ব্যবস্থা নেননি তদন্ত কর্মকর্তা। নিরুপায় হয়ে বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ আল আমিনের বিরুদ্ধে আবারও লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর। কিন্তু এবারও অন্যায় কার্যক্রমের প্রতিকার মেলেনি। পদ জবরদখলকারী আল আমিন দীর্ঘদিন যাবত সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন।
গোলাম হোসেন আরও জানান, সম্পূর্ণ বৈধভাবে পাওয়া চাকরি ফিরে পেতে তিনি সাতক্ষীরা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ আদালত নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র তলব করলে বর্তমান উপজেলা শিক্ষা অফিসার তার কার্যালয়ে আল আমিনের নিয়োগ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্রের হদিস পাননি। পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সন্ন্যাসীর চক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আল আমিনের ফাইলপত্র জব্দ করেছেন। নিয়োগপত্র বা এসংক্রান্ত কোন কাগজপত্র না থাকা সত্তে¡ও জোরপূর্বক যোগদান ও প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ৫ বছর যাবত সরকারি কোষাগারের অর্থ আত্মসাত করেছেন আল আমিন। অন্যায়ভাবে তাকে চাকরিতে যোগদানে বাঁধা প্রদান, মারপিট ও জীবননাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ পন্থায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাওয়া চাকরিটি অবিলম্বে ফিরে পাওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অসহায় গোলাম হোসেন।
