সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করেছে সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদল।
রোববার (২৬ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সভাপতি আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল কাদির স্বপন, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম সম্পাদক সুমন, পৌর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, উৎপাদিত ধানের মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে কম হওয়ায় কৃষকরা হাহাকার করছে। উৎপাদন খরচ থেকে তিনশ টাকা কমে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে ছয় হাজার টাকা। ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট ও নেত্রকোণাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকেরা পাকা ধানক্ষেত্রে আগুন দিচ্ছে, পাকা ধানে মই দিচ্ছে, সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছে। সরকার প্রতি মণ ধান কেনার জন্য ১ হাজার ৪০ টাকা প্রদান করলেও কৃষকের হাতে যাচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বাকী টাকা যাচ্ছে আনুকুল্য পাওয়া মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের পকেটে। এ নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই। ধানের দাম কমার জন্য উদ্ভুত সংকটে সরকার উদাসীন। এ বিষয়ে তাদের কোন দায় নেই বলে কৃষিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সরকারের গণ বিরোধী নীতির কারণেই কৃষকেরা উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ কৃষকরাই বাংলাদেশের আত্মা ও প্রাণ। কৃষকদের রক্ষা করতে না পারলে দেশে দুর্যোগ নেমে আসবে। “আর করবো না ধান চাষ, দেখব তোরা কি খাস?” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তারা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে। ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মরবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল সাতক্ষীরা জেলা শাখা, মধ্যস্বত্ত্ব ও সুবিধভোগীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ও মধ্যস্বত্ত্ব ভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ করার জন্য সরকারকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়।
