ডেস্ক রিপোর্ট: শ্যামনগরে এক মৎস্য ব্যবসায়ীকে দিনদুপুরে মারপিট করে টাকা ছিনতাই করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ মে বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার বংশীপুর মেইন রোডের রোজা বিক্স এর পাশে কালভার্টের উপরে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামে মৃত ছোবাহান আলী গাজীর ছেলে সাদা মাছের আড়ৎদার ব্যবসায়ী কওছার আলম গাজী (৫২) প্রতিদিনের ন্যায় শ্যামনগর সোনার মোড়ে মাছ কেনাবেছা করে শ্যামনগর ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে জয়াখালী নিজ বাড়ীতে ফিরছিল। এমন সময় একই গ্রামের বসবাস কারী নওশের আলমের ছেলে মনির হোসেন (৪৭) কওছার আলমের কাছে ০১৭৩২১৮৮২৪২ নং থেকে ফোন করে তার অবস্থান জেনে নেন। মনির কথা বলার ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ২টি মোটর সাইকেল যোগে অপরিচিত ৩ থেকে ৪ জন এবং জয়াখালী গ্রামের নওশের আলম গাজীর ২ ছেলে মনির হোসেন (৪৭) ও মিরাজ হোসেন (৩৩) বংশীপুর-ভেটখালী মেইন রোডের রোজা ব্রিক্স এর পার্শ্ববর্তী কালভাটের উপরে কওছার আলমের ভাড়া চালিত মোটর সাইকেল এর গতি রোধ করে। কোন কিছু বোঝার আগেই মনির ও মিরাজ কওছার আলমকে বেদম মারপিট করে অজ্ঞান করে ফেলে। অতি অল্প সময়ে সু-কৌশলে কওছার আলমের নিকটে রক্ষিত ১ লক্ষ টাকা ছিনতাই করে মনির ও মিরাজসহ অন্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কওছার আলমের ভাড়া চালিত মোটর সাইকেল চালক ইয়াছিন অসুস্থ্য ব্যবসায়ী কওছার আলমকে তাৎক্ষনিক ভাবে শ্যামনগর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। শ্যামনগর সদর হাসপাতালের ১২ নং পুরুষ বেডে ভর্তিরত অবস্থায় কওছার আলম মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ বিষয়টি নিয়ে শ্যামনগর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছে। ২৪ শে মে ২০১৯ সকাল ১০টার দিকে শ্যামনগর থানার এস.আই তপন কুমার বংশীপুর রোডের ছিনতাই করা জায়গা তদন্ত ও পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে কৈখালীর জয়াখালী গ্রামে ছিনতাইকারী মনির ও মিরাজের বাড়িতে খোজ খবর নিতে এসে তাদের পিতা নওশের আলম বলেন দীর্ঘদিন যাবৎ ২ ছেলে, স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে শ্বশুর বাড়ীতে ঘর জামাই আছে। আমাদেরকে খেতে পরতে দেয় না দেখেও না। কওছার আলমকে মারপিট করেছে শুনেছি। এলাকার লোকজন মনিরকে ২০/২১ বছর পূর্বে হাফিজা হত্যাকারী হিসাবে চিহ্নিত করে তার উগ্র স্বভাবের কথা বলে বিচার প্রার্থনা করেন। ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা মনির ও মিরাজকে জরুরীভাবে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
