ফাহাদ হোসেন: ঈদ মানেই নতুন পোশাক। ঈদের দিন নতুন পোশাক পরে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা। তাইতো পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যদের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে আগেভাগেই কেনাকাটা সারতে মার্কেটে ভীড় জমাচ্ছেন অভিভাবকরা। যানজট, গরম বা ঝক্কি ঝামেলা- সবকিছু উপেক্ষা করে ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে এই প্রচেষ্টা তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের চায়না বাংলা শপিং কমপ্লেক্স, বেবী ফ্যাশন, বেবী কালেকশন, শিশু মেলা, পরি, বাজার কোলকাতা, মোহিনী ফ্যাশন, মীম গার্মেন্টস, মেহেরুন প্লাজা, সিটি মার্কেট, ফাল্গুনি বস্ত্রালয়, বসুন্ধরা মার্কেট, লন্ডন প্লাজা, আলা বারাকা বাজারসহ থানা সড়কের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড়। এসব দোকান আর শপিং কমপ্লেক্স থেকে ক্রেতারা তাদের চাহিদা আর সামর্থ অনুযায়ী পছন্দের পোশাক কিনছেন। বাচ্চাদের পোশাকে ক্রেতারা আলাদা নজর দিতেই বারবার এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছেন। বাচ্চা নিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রচ- ভীড় আর রোদে হাফিয়ে উঠছেন কেউ কেউ। অসহনীয় যানজটে অনেকে দুঃসহ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তবে, বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন দোকান ঘুরে চাহিদামতো জিনিসপত্র কিনে অনেকে বেশ খুশি মনে বাড়ি ফিরছেন। ক্রেতারা বলছেন, পছন্দের নতুন জামা পেয়ে ছেলেমেয়েরা ঈদের আনন্দ যেন এখনই পেতে শুরু করেছে। কেউ বা আবার আবদার করে বসেছে ঈদের আগে এই পছন্দের পোশাক কাউকেই দেখাবে না।
শহরের চায়না বাংলা শপিং কমপ্লেক্সে শানজিদা শিরিন এসেছেন ছেলের জন্য পোশাক কিনতে। বারবার ছেলের গায়ে ধরে মেপে নিচ্ছেন তিনি, যেন ঠিকঠাক হয়। সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা করা লাগে, তার পছন্দ নিয়ে। বাচ্চাদের ঈদের আনন্দই তো আমাদের ঈদ আনন্দ।
তিনি আরও বলেন, বাচ্চাদের পোশাকের দাম গত বছরের চাইতে এবছর বেশ বেড়েছে। দামের দিকে খেয়াল রেখেও তাই কেনাকাটা করতে হচ্ছে। তবে প্রচ- ভীড় আর রোদের মধ্যে যানজট বেশ ভোগান্তিতে ফেলেছে আমাদের।
চায়না বাংলা শপিং কমপ্লেক্সের বিক্রয়কর্মী জানান, শিশুদের জন্য এবার বেশ ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক রাখা হয়েছে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। ক্রেতারা সামর্থ অনুযায়ী নিজেদের বাচ্চাদের জন্য এসব পোশাক কিনছেন।
এবারের ঈদে সাতক্ষীরা শহরের দোকান আর শপিং কমপ্লেক্সগুলোতে বাচ্চাদের গাউন, ফ্রক, কামিজ, পার্টি ফ্রক, শর্ট কামিজ বিক্রয় করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের লাচাও রয়েছে। এসব পোশাক বিভিন্ন ডিজাইন আর রঙের। ধরণ ভেদে এসব পোশাকের দাম রাখা হয়েছে তিনশ টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।
শিরিনা সুলতানা রোদ আর যানজট পেরিয়ে মেয়ের জামা কেনা শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় বলেন, বাচ্চার জন্য পোশাক কিনে বেশ হাফিয়ে উঠেছি। ভীড়ের কারণে কোনকাটা করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বাচ্চাদের জিনিসপত্র তো, একটু বেশি একটু ঘুরে ফিরেই কিনতে চেষ্টা করি। যাতে ভালো পোশাক পেয়ে আমার মেয়ে খুশি থাকে। আর আমার বাচ্চা খুশি মানে আমারও খুশি। তবে গত বছরের চাইতে এবছর বেশি ভীড় হয়েছে বলে জানালেন তিনি।
বেবী ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী হাবিবুর রহমান জানান, ঈদ বাজার উপলক্ষ্যে দোকানে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তোলা হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এসব পোশাক বিভিন্ন দামে বিক্রয় করা হচ্ছে। ছয় বছরের নিচের বাচ্চাদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। ছয় বছরের উপরে ছেলে-মেয়েদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে।
হাবিবুর রহমান আরও জানান, ক্রেতারা যাতে সহজেই নিজের সাধ্য অনুযায়ী পোশাক কিনতে পারেন সেজন্য পোশাকের ধরণ বিশেষে ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে।
রমজানের শুরু থেকেই জমে ওঠা এই ঈদ বাজার চলবে ঈদের আগের দিন চাঁদ রাত পর্যন্ত। ক্রেতারা এর আগেই নিজেদের পোশাক কিনে ঈদ বাজারের সমাপ্তি টানছেন। বাচ্চাদের পোশাকের ক্ষেত্রে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে ক্রেতারা পছন্দ অনুযায়ী পোশাক কিনছেন। বাচ্চারা নতুন পোশাক পেয়ে যেন ঈদ আনন্দে এখনই মেতে উঠছে। একই সাথে শহরের সর্বত্র বাচ্চাদের বিপণী-বিতানগুলোতে যেন ঈদ উৎসব বিরাজ করছে।
