কলারোয়া প্রতিনিধি: জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্যবসায়ী তুষার হোসেনের ডান হাতের চারটি আঙ্গুল কেটে নিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান নাইস। এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাগর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ রেজাউল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (১৮ মে) দুপুরে কলারোয়া পৌর শহরে এ ঘটনা ঘটে। তুষার কলারোয়া উপজেলার পাটুলিয়া গ্রামের মুনসুর গাজীর ছেলে। আহতের বাবা মুনসুর গাজী জানান, উপজেলার পাটুলিয়া গ্রামে ৩৩ শতক জমি নিয়ে আমাদের সাথে বিরোধ চলছিল জনৈক মন্টু’র। ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ সাগর ও সম্পাদক শেখ নাইচ মন্টু’র হয়ে জমি দখল করে।
প্রতিবাদ করায় এর জের ধরে শনিবার (১৮ই মে) বেলা ১১ টার দিকে ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ সাগর ও সম্পাদক শেখ নাইচসহ সন্ত্রাসীরা প্রথম দফায় তুষারের শো-রুমের সামনে তুষারের উপর হামলা চালায়। হামলায় আহত হয়ে তুষার থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সরনাপন্ন হয়। ওসি মনিরুজ্জামান চিকিৎসার জন্য তুষারকে হাসপাতালে যেতে বলেন। কিন্তু তুষার হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার জন্য গেলে একই ব্যক্তিদের দ্বারা দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হয়। এসময় ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ সাগর ও সম্পাদক শেখ নাইচ এর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা লোহাকুড়া গ্রামের নূরুল কবীর বাবুর হাতে থাকা রামদা দিয়ে তুষারের মাথায় কোপ মারতে গেলে সেই কোপে তুষারের ডান হাতে লেগে চারটি আঙ্গুল কেঁটে পড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তুষারকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তুষারকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার শ্যামলী স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, একখ- জমি নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও তুষার ইলেকট্রনিক্সের মালিক তুষার ও স্থানীয় মন্টুর মধ্যে বিরোধ চলছিল। সকালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের মেহেদি হাসান নাইসের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা মন্টুকে ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেয়। ওসি আরও জানান, এসময় তুষার বাঁধা দিতে গেলে তাকে পিটিয়ে আহত করে ও রামদাঁর কোপ দিয়ে চার আঙ্গুল কেটে নেয়। তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটা এজহার দায়ের করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে রেজাউল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
