ফাহাদ হোসেন: সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, রমজানে সাতক্ষীরাবাসীকে অধিকতর নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমরা আরো তৎপর হয়েছি। ঈদকে সামনে রেখে বাজারে আর্থিক লেনদেনের প্রবাহ বেড়েছে। এটাকে কেন্দ্র করে অপরাধী চক্র বিশেষ করে টাকা ছিনতাইকারী, প্রতারক চক্র, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকা- ঘটনো- এ ধরনের অপরাধ বন্ধের জন্য বিভিন্ন মার্কেটে ইউনিফমের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া মোবাইল পার্টি তৎপর রয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা শহর আমাদের সিসি ক্যামেরার আওতায় আছে। যেটা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। এটা আগে আমরা কনস্টেবল দ্বারা মনিটরিং করতাম এখন আমরা অফিসার দিয়ে মনিটরিং করছি, যাতে কেউ কোনো অপরাধ করে পালিয়ে যেতে না পারে, অথবা অপরাধ করতে না পারে- অপরাধের প্লান থাকলেও যাতে আমরা আগেই বুঝতে পারি।
পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরাবাসীর নিরাপত্তা, মার্কেটে চাঁদাবাজি, যানজট, জাল টাকার প্রতারণা ও ছিনতাইসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সাতক্ষীরা শহরে এখনো পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যখন অতিরিক্ত টাকার লেনদেন হবে তখন অবশ্যই জাল কি না যাচাই করে নেবেন। অথবা পুলিশের কাছে আসলে আমরা টাকা চেক করে দেব। যদি বড় টাকার ট্র্রানজেকশন করতে ক্যারিং করার প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাদেরকে জানালে আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবো।
জালটাকার বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে ঢাকা ডিবিতে কাজ করার সুবাদে জাল টাকার প্রচলন বা জাল টাকার প্রবাহ কেমন হয় সেটা আমাদের নলেজে আছে। সাতক্ষীরা জেলায় কেউ জাল টাকা ছাপায়, এমন তথ্য আমাদের নলেজে নেই। কিšুÍ কেউ এ টাকা কিনে এনে চালাতে পারে। এজন্য আমাদের নজরদারি রয়েছে।
তিনি বলেন, আমি সাতক্ষীরাবাসীকে বলতে চাই- সাতক্ষীরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো আছে। সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ টাকা পয়সা নিয়ে নিজ ঘরে অবস্থান করতে পারছেন এবং পারবে সেই নিশ্চয়তাই আমি দিচ্ছি। যদি কোন পুলিশ অফিসার কখনো কারোর বাড়িতে যায় উইথ আউট ইউনিফম তাহলে তারা যেনো তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপারকে জানায়। যাচাই বাছাই না করে তারা যেনো কোনো তথ্য না দেয়। যদি কোনো জায়গায় পুলিশ কোনো অভিযানে যায় পুলিশের উপযুক্ত প্রমাণ না পেয়ে তারা যেনো কোনো তথ্য না দেয়। সাতক্ষীরাবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন- এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে তারা যেন তাৎক্ষণিক সরাসরি আমাকে জানায়।
তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে ২০ রোজার পর থেকে এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেখানে মোবাইল পার্টি, ফিকসড পার্টি এবং সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। এর বাইরেও চেক পোস্ট থাকবে এবং পুলিশ লাইন থেকে বাড়তি পুলিশ নিয়োগ থাকবে। রাত্রকালীন চেক পোস্ট থাকবে। গাড়ি নিয়ে পেট্রোল ডিউটি থাকবে।
এছাড়া সাতক্ষীরার যারা জেলার বাইরে আছেন- তাদের কাছে অনুরোধ, বাড়ি ফেরার পথে যদি গভীর রাতে সাতক্ষীরায় পৌঁছায় তারা যেন ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউন্টারে অবস্থান করেন। আর যদি একান্তভাবে কারোর যেতেই হয়, তাহলে যেনো পুলিশের সহায়তা নিয়ে বাড়িতে যান।
শহরের যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করার জন্য পুলিশ লাইন্স থেকে অতিরিক্ত পুলিশ দেয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। এখন থেকেই শহরের যানবাহনের শৃঙ্খলা রাখার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। কাজেই শহরে যে সমস্ত লোকজন কেনাকাটা করতে আসবে, আমরা তাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, তারা অবশ্যই তাদের পরিবার পরিজনের সাথে ইফতার করতে পারবে।
তিনি বলেন, দুর্বৃত্তায়ন ঠেকাতে শহরের তিন প্রান্তে সিনিয়র অফিসারদের নেতৃত্বে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। চেকপোস্টের মাধ্যমে অবৈধ যান যাতে শহরে ঢুকতে পারে না এবং অবৈধ যান ব্যবহারকারী যাতে কোনো অপকর্ম করতে না পারে সেজন্য এ যানগুলোকে আমরা পুলিশ হেফাজতে নিচ্ছি অথবা ডাম্পিং করছি।
তিনি বলেন, সর্বোপরি পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে মার্কেটে চাঁদাবাজি, যানজট, জাল টাকার প্রতারণা ও ছিনতাই রুখতে জেলা পুলিশ প্রস্তুত।
