কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে অপপ্রচার আর গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে রোহিঙ্গা সন্দেহে ৩ নারীসহ ৭ জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। শনিবার (১১ মে) পুলিশ জনতার হাতে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তারা সকলেই মানসিক ভারসাম্যহীন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান জানান, শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় জনতা রোহিঙ্গা সন্দেহে ৭জনকে আটক করেছে বলে খবর পাই। পরে পুলিশ সদস্যরা তারালী, রতনপুর ও কুশুলিয়ার চরযমুনা এলাকা থেকে তিন নারীকে এবং উপজেলা পরিষদ মোড়, উপজেলা সদরের ফুলতলা মোড়, ভদ্রখালী, কুশুলিয়া ও কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে ৫ পুরুষকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। আটককৃতরা নিজেদের নাম ঠিকানা সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারছে না। তারা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওসি হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার অন্যান্যদের মতো কুশুলিয়া থেকে আটক করা হয় মফিজুল ইসলাম (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে। পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম উক্ত মফিজুল ইসলামকে নিজের ছেলে হিসেবে দাবি করে থানা থেকে বাড়ি নিয়ে গেছেন। থানা হেফাজতে থাকা ৭ জনকে রবিবার আদালতে প্রেরণ করা হবে। বিজ্ঞ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গৃহীত হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, এলাকাবাসীর মধ্যে রোহিঙ্গা ও ছেলেধরা সন্দেহে ব্যাপক গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এজন্য অপরিচিত কাউকে দেখলে তাদেরকে রোহিঙ্গা হিসেবে চিহ্নিত করে আটক করছে। অনেক ক্ষেত্রে মারপিটের ঘটনাও ঘটছে। তবে আটক ব্যক্তিবর্গকে রোহিঙ্গা বা ছেলেধরা হিসেবে ধারণা করলেও উপজেলার কোনো এলাকায় ছেলেমেয়ে নিখোঁজ হওয়া কিংবা ধরে নিয়ে যাওয়ার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
