ডেস্ক রিপোর্ট: আদালতে বিচারাধীন সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে পলাশপোল এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে আল জামী সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিবাদ জানান।
লিখিত অভিযোগে জামী বলেন, পলাশপোল মৌজায় সাড়ে ৪ শতক সম্পত্তির মূল মালিক আমার দাদা বাবুর আলী সরদারের সাথে জরিনা খাতুনের বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় পলাশপোল এলাকার মৃত শওকত আলী খানের ছেলে কুখ্যাত সোনা চোরাকারবারী কামরুজ্জামান বুলু ওই সম্পত্তি জরিনা খাতুনের কাছ থেকে ক্রয় করেন। যা আইনত অবৈধ।
এদিকে, অতিরিক্ত সহকারী জর্জ আদালত বাবুর আলী সরদারের ওয়ারেশগণকে বাদ দিয়ে জরিনা খাতুনের পক্ষে একতরফা ডিক্রি দেন। সেখানে কামরুজ্জামান বুলু কোনভাবে সম্পৃক্ত নন। কিন্তু তারপরও ওই একতরফা ডিক্রির উপর ভিত্তি করে ’১৮ সালের ২৮ নভেম্বর কামরুজ্জামান বুলু কালো টাকার প্রভাবে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তিনতলা ভবনসহ দোকানপাট ভাঙচুর করে উক্ত সম্পত্তি দখল করেন। অন্যদিকে ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে আমরা সাতক্ষীরা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত মামলা দায়ের করি। আদালত সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে গত ১১ এপ্রিল তারিখে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোকদ্দমার রায় ডিক্রি স্থগিত করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২৪ এপ্রিল তারিখে আমাদের সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছিলাম। পাঁচ ফুটের মত প্রাচীর উঠানোর পর সাতক্ষীরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যে পর্যন্ত কাজ হয়েছে ওই পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। আমরা প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কাজ বন্ধ করে দেই। কিন্তু পরবর্তীতে কামরুজ্জামান বুলু, তার স্ত্রী মনজুয়ারা ইমতিয়াজ, ছেলে পিয়াস, গাড়ীর ড্রাইভার সোহাগ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে ওই প্রাচীর ভাঙচুর শুরু করে এবং নিজের বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। সে সময় আমরা কেউ ঘটনাস্থলে ছিলাম না। সেখানে তাকে মারপিটের কোন ঘটনাই ঘটেনি।
সিনিয়র সহকারী জজ আদালত জরিনার ডিক্রি স্থগিত করায় কামরুজ্জামান বুলু আমাদের উপর ক্ষিপ্ত ওঠে এবং ওই সম্পত্তি অবৈধভাবে তার দখল রাখতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এর জের ধরে গত ২৪ এপ্রিল তারিখে আমাদের প্রাচীর ভাঙচুর করে, নিজের বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং পড়ে গিয়ে আহত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। আমরা পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি সে বাড়ির সিড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে পড়ে আহত হন। ওই বিষয়টিকে পুজি করে আমার পিতা, চাচা ও ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে কামরুজ্জামান বুলু যাদের নাম উল্লেখ করেছে তাদের মধ্যে একজন রাজশাহীতে, একজন ঢাকাতে এবং কয়েকজন শহরের বাইরে অবস্থান করছিলেন। তারা এবিষয়ে কিছুই জানে না।
তিনি কামরুজ্জামান বুলুর হাত থেকে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
