হাঁস মারা যাওয়ায় অসহায় নারীর বাড়ি ভাঙচুর, উল্টো ফাঁসানোর পায়তারা
মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা: প্রভাবশালী হওয়ায় মুখ খুলতে ভয় পায় এলাকাবাসী। নীরবে সব কিছু মাথা পেতে সহ্য করেন গ্রামবাসী। আর তাই এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে দেবহাটার চন্ডিপুর গ্রামের একটি প্রভাবশালী পরিবার।
খবর নিয়ে জানাগেছে ঐ পরিবারের এক সদস্য বিচারক। আর তাই মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে শোষণ করে চলেছে বিচারকের পরিবারের সদস্যরা। কোন কিছু হলেই তেড়ে এসে মারপিট ও হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগও পাওয়া গেছে পরিবারটির বিরুদ্ধে। এমনকি ঐ বিচারকের বহু বিবাহ থাকায় তিনি ঠিকমত বাড়িতে আসেন না। আর তাই তার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে এমনটি অভিযোগ এলাকার মানুষের মুখে মুখে। রবিবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যার সময় তারই প্রতিফলনঘটে উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে খাদেম আলীর স্ত্রী সফুরা খাতুনের বাড়িতে। ইস্যু প্রভাবশালীদের হাঁস মরে পড়ে থাকা। আর এ তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে হামালা চালিয়ে বসতবাড়ি ভাংচুরসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। এমনকি এ অপকর্মের পরেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে উল্টো ক্ষতিগ্রস্থদের ফাঁসাতে মিথ্যা নাটক সাজানোর পায়তারা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ করে ভূক্তভোগী সফুরা খাতুন বলেন, আমার কোন ছেলে নেই। ২টা মেয়ে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারে অভিভাবক না থাকায় বিভিন্ন সময় মারপিট ও গালিগালাজ করে প্রভাবশালী প্রতিবেশীরা। আমি কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। বিভিন্ন ব্যক্তিদের অনুদানে গত বছর একটি ইটের তৈরী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি। আমি রবিবার সকালে কাঁকড়া ধরতে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু আমার অবর্তমানে আমাদের বাড়ির সামনে প্রভাবশালী প্রতিবেশী আমিন গাজীর ছেলে রেজাউল ইসলামের একটি হাঁস মরে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। আমি বাড়িতে আসা মাত্র প্রতিবেশী রেজাউলের পরিবার উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ করতে থাকে। এর মধ্যে রেজাউলের শালা টাউনশ্রীপুর গ্রামের শাহাজান আলী এসে উপস্থিত হন। সে খুন জখমের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আমার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। বাড়ির চালের সিমেন্ট শিট, সার্স এনজিও’র দেওয়া বাথরুম ভেঙ্গে চুরমার করে। এমনকি ঘরের ভিতর ঢুকে বালিশ, কাথা, হাড়িপাতিলসহ বিভিন্ন জিনিষপত্র ছুড়ে ছুড়ে বাহিরে ফেলে দিতে থাকে তারা। বাধা দেওয়ায় রেজাউল ইসলাম, তার স্ত্রী রেহেনা খাতুন, শালা শাহাজান, এবং আমিন গাাজীর স্ত্রী হাসিনা খাতুন আমাকে বেধরক মারপিট করে। এমনকি আমার গায়ে থাকা পোশাক ছিড়ে ফেলে শ্লীলতাহানী করেছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে চলে যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, রেজাউলের ভাই সিরাজুল ইসলাম পেশায় বিচারক (জর্জ) হওয়ায় তার ভাই ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। এমনকি জনসাধারণের ব্যবহৃত পুকুরে মলমূত্র ফেলে ব্যবহার অনুপোযোগী করে তুলেছে। তাদের বাড়ির সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা উঠিয়ে রেখে এলাকায় ব্যাপক দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাদের সাথে কোন কিছু বলতে গেলে হামলা, মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তার ভাই একজন বিচারক হওয়ায় স্থানীয়রা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। আমরা তাদের এই অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে চাই।
এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি লোক মুখে ঘটনা শুনে সেখানে যেয়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি জানতে পারি। তবে ক্ষতিগ্রস্থ নারী খুবই অসহায় জীবনযপন করে। আমরা স্থানীয় ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে তার ঘর নির্মাণে ব্যবস্থা করি। এমনকি সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ আল-আসাদ, জেলা পরিষদের সদস্যরা আল ফেরদৌস আলফা তার ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করেন। তার বাড়ি ভাংচুর করার বিষয়টি খুবই দুঃখের বিষয়।
দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা জানান, আমি ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তবে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রেজাউলের পরিবারে কোন সদস্য তাদের বাড়িতে না থাকায় তাদের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়েরর প্রস্তুতি চলছিল।
