মনজুরুল হাসান, খেশরা (তালা): তালার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। পুরাতন ও জরাজীর্ণ এ ভবনটি যেকোন সময় ধসে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। অথচ এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস কক্ষ নিয়ে ১৯৯৬ সালে সরকারিভাবে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে ওই ভবনের বিমে ফাঁটল তৈরি হয়েছে। পলেস্তার খসে পড়ছে। অধিকাংশ পিলিয়ারের পলেস্তার খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। আবার কোন কোন পিলিয়ারের পলেস্তার খসে পড়ে চিকন হয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে যেকোন সময় ভেঙে পড়তে পারে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভবনের দেয়ালগুলো ফেটে গিয়ে বড় বড় ফাঁকা হয়ে গেছে। সেগুলোও যেকোন সময় ভেঙে পড়তে পারে। ভবনের ছাদ থেকে প্রতিনিয়ত পলেস্তার খসে পড়ছে। আর তার মধ্যে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৭ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শ্রেণি কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের ক্লাসের মধ্যেই পড়ে আছে খসে পড়া পলেস্তার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস করতে ভয় লাগে। কিন্তু স্যাররা ক্লাস করতে বলে তাই করি।
অভিভাবকরা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি.এম. ছালেকুর রহমান জানান, বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকাই বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পড়ানো হচ্ছে। তিনটি ক্লাশ রুমই ব্যবহারের অনুপযোগী। অতি শীঘ্রই নতুন ভবন দরকার।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, এ ব্যাপারে কয়েকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য সর্বশেষ ১০ এপ্রিল খেশরা ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। তাছাড়া এমপি মহাদয়কেও জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।
