ডেস্ক রিপোর্ট: অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রাইজমানির টাকা ফেরত পেয়েছে কলারোয়ার কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির স্কুল ছাত্র আব্দুল মোমিন। একই সাথে আগামী দুই দিনের মধ্যে জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত প্রাইজমানির টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার ও ক্ষমা চেয়ে এ যাত্রায় রেহাই পেয়েছেন প্রধান শিক্ষক ও স্কুলের সভাপতি।
আব্দুল মোমিনের প্রাইজমানির টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বুধবার দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরায় ‘বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করলো মোমিন, প্রাইজমানি আত্মসাৎ করে প্রতিদান দিলেন প্রধান শিক্ষক ও এসএমসি সভাপতি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে তা নজরে আসে দুদকের। এর পরপরই দুদকের একটি টিম বুধবার দুপুরে কলারোয়া উপজেলার কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। এ সময় তাদের সাথে ছিলেন কলারোয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোজাফফর হোসেনসহ দুইজন সহকারী শিক্ষা অফিসার।
স্কুল ছাত্র আব্দুল মোমিনের পিতা কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামের আসছার আলী জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে খুলনা থেকে দুদকের ৭ সদস্যের একটি টিম স্কুলে আসেন। তারা আমাকে সেখানে ডেকে পাঠান। আমি সেখানে গিয়ে ঘটনাটি তাদেরকে খুলে বলি।এরই মধ্যে দুদকের টিম আসার খবরে সেখানে এলাকার বহু মানুষ জড়ো হয়। আমি জেলা প্রশাসকের কাছে যে অভিযোগ করেছি তার সত্যতা পাওয়ায় দুদক কর্মকর্তারা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে ভৎসনা করেন। এক পর্যায়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও স্কুলের সভাপতি মুনসুর আলী সেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চেকের মাধ্যমে পাওয়া ১০ হাজার টাকা মোমিনের পিতার হাতে তুলে দেন। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকার করায় আব্দুল মোমিন যে টাকা পেয়েছিলো তাও আগামী দুই দিনের মধ্যে দিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন প্রধান শিক্ষক ও স্কুলের সভাপতি।
এদিকে, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কলারোয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোজাফফর হোসেন জানান, স্কুল ছাত্র মোমিনের পিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। ওই স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আব্দুল মোমিন (১১) আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০১৮ এর ১০০ মিটার দৌড়ে থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় প্রথম স্থান এবং জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। গত ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে আব্দুল মোমিনের হাতে তুলে দেন একটি চেক, পুরস্কার ও সার্টিফিকেট।
কিন্তু তার সব টাকা গায়েব করে দেয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
শুধু তাই নয়, জেলা পর্যাযে পুরস্কার পাওয়া ৫ হাজার টাকা ও বিভাগীয় পর্যাযে পুরস্কার পাওয়া আরো ১০ হাজার টাকাও গায়েব করে দেন তারা।
বিষয়টি মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগ আকারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে জানায় আব্দুল মোমিনের পিতা আনছার আলী।
