ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ সদর হাসপাতালের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া ১৮ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম লোপাটকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক ফাহিমুল হক কিসলু, অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার, ওবায়দুস সুলতান বাবলু, নিত্যানন্দ সরকার, আবেদুর রহমান, সুধাংশু শেখর সরকার, অধ্যক্ষ শিবপদ গাইন, পলাশ রহমান, রওনক বাসারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, সদর হাসপাতালের এক্সরে মেশিন অকেজো, আলট্রাসোনো মেশিন অকেজো, ইসিজি মেশিন ভাল রেজাল্ট দেয় না। এমন নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তারা বলেন সরকার এই হাসপাতালের অনুকূলে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দ দিয়েছেন। অথচ তা ব্যবহারের অভাবে পড়ে থাকছে। এর জন্য যেসব ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান দরকার তা এখানে নেই জানিয়ে তারা বলেন, এর ফলে সাতক্ষীরার মানুষ চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। এই হাসাপাতালের কিচেন ও টয়লেটে বিরাজ করছে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার এই হাল তুলে ধরে তারা আরও বলেন, জেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য সরকার তিনটি টেন্ডারে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এই টাকার বিনিময়ে ২৪ প্রকারের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কথা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান এইসব মালামাল ঠিকাদারের মাধ্যমে ক্রয়ের নামে সমুদয় টাকা আগাম পরিশোধ করেছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রিপোর্ট দিয়েছেন। অথচ বাস্তবে এসব সরঞ্জাম এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা হাসপাতালে পৌঁছায়নি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বিষয়টি তদন্ত করতে এলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। মালামাল গ্রহণের জন্য নিযুক্ত সার্ভে কমিটি লিখিতভাবে যে রিপোর্ট দিয়েছেন বলে বলা হয়েছে, তাতে তারা কোন স্বাক্ষর দেননি বলে তিন জন চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান, ডা. শরিফুল ইসলাম ও ডা. ফরহাদ জামিল তদন্ত কমিটির কাছে উল্লেখ করেছেন। এমনকি স্টোর কিপার জয়ন্ত সরকার এসব মালামাল বুঝে পাননি বলেও উল্লেখ করেছেন। এতবড় ঘাপলা উল্লেখ করে বক্তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রকৃতপক্ষে মালামাল বুঝে নেওয়ার মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র লিখে তাতে সিল ছাপ্পর মেরে সরকারি কোষাগারের অর্থ লোপাট করা হয়েছে। তারা এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুদক চেয়ারম্যান এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, এ ধরনের অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি অর্থ লোপাটের প্রতিবাদ জানাতে ২৩ এপ্রিল তারা সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেন। এই কর্মসূচিকে ভ-ুল করে দুর্নীতিবাজদের রক্ষার লক্ষ্যে সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থাকা লুণ্ঠনকারীরা ভূমিহীন ঐক্য পরিষদ নামের একটি ভূয়া সংগঠন তৈরী করে একই স্থানে একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচি দেয়। তারা জানান, সংঘাত সংঘর্ষ এড়াতে এই কর্মসূচি ২৪ এপ্রিল বুধবার পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ দুর্নীতিবাজদের কারণে এবং অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ফলে প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণির মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এসব বিষয়ে তারা সাতক্ষীরা জেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেছেন এবং দফায় দফায় কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার হালহকিকত তুলে ধরেছেন। তারা অবিলম্বে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসার সরঞ্জাম ব্যবহার, যথেষ্ট সংখ্যক ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ এবং দুর্নীতিবাজদের বিচারের দাবি জানান।
