ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬।
এ উপলক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ সকাল পৌনে ৭টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
এতে সামাজিক-সাংস্কৃতিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাঙালিয়ানা সাজ ও হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য নিয়ে অংশ নেয়।
পরে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ, পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি আবু আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। আমরা আর কোন নুসরাত, আর কোন মানুষের প্রাণ অকালে ঝরে যাক তা চাই না। ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, মাদক, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আসুন এক সাথে যুদ্ধে নামি।
অনুষ্ঠানে বাঙালিয়ানা সাজ ও হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য উপস্থাপন করে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বর্ণাঢ্য করে তোলায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে সাতক্ষীরা মর্নিং সান প্রি-ক্যাডেট স্কুল, সাতক্ষীরা সিলভার জুবলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, ম্যাধমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে সাতক্ষীরা নবজীবন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও পিএন হাই স্কুল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে উদীচীকে পুরস্কৃত করা হয়।

এদিকে, নববর্ষ উপলক্ষ্যে সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় পৌরদীঘিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সিনিয়র ও জুনিয়র বিভাগে অসংখ্য সাঁতারু প্রতিযোগিতায় অংশ্রগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় সিনিয়র বিভাগে প্রথম হয়েছেন আরিফ হোসেন, দ্বিতীয় হয়েছেন দিপু ইসলাম এবং তৃতীয় হয়েছেন মো. শরীফ।
অপরদিকে, জুনিয়র বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছে আবু বকর, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে রাইছুল এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে ইব্রাহিম হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য কাজী কামরুজ্জামান, খন্দকার আরিফ হাসান (প্রিন্স) ও সংস্থার সাধারণ সদস্য শফিউল ইসলাম খান প্রমুখ।
অন্যদিকে, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠে শিশু-কিশোর-আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন সকলেই। বৈশাখী মেলা প্রাঙ্গণ ও শহরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের ঠাই ছিল না।
