ঢাকাThursday , 11 April 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

সুন্দরবন টেক্সটাইলস মিলের মৃত্যু! বাঁচাতে প্রয়োজন আধুনিক যন্ত্রপাতি, ক্রয়-বিক্রয় নীতি ও শ্রম মজুরির সমন্বয়

admin
April 11, 2019 10:07 pm
Link Copied!

এস এম নাহিদ হাসান/ফাহাদ হোসেন: উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ শ্রমশক্তি, আধুনিক যন্ত্রপতি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে বন্ধ হয়ে আছে সাতক্ষীরার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন টেক্সটাইলস মিল। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ১৮শ শ্রমিক।
৮০’র দশকে ৩৩ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত মিলটি শুরুতে লাভজনক অবস্থায় থাকলেও পরবর্তীতে নানা কারণে আর সেই অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ১৯৮৩ সালে ২৪ হাজার ৯৬০টি টাকু সমৃদ্ধ মেশিন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়ে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত টানা দশ বছর লাভে ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
কিন্তু পাকিস্তান থেকে চড়া মূল্যে নিম্নমানের তুলা আমদানি করা প্রতিষ্ঠানটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। সেই থেকে আর মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এরপর সার্ভিস চার্জ, ভাড়া সিস্টেমসহ বিভিন্ন উপায়ে একাধিকবার মিলটি চালু করার উদ্যোগ নিলেও ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ। আধুনিক যন্ত্রপাতি, ক্রয়-বিক্রয় নীতি ও শ্রম মজুরির মধ্যে সমন্বয় করা গেলে আবারো লাভজনকভাবে মিলটি চালু করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুন্দরবন টেক্সটাইলস মিলের কারখানার ফটক সিলগালা করা। বন্ধ রয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। তিনজন কর্মকর্তা, চারজন কর্মচারী, দুইজন শ্রমিক ও ১৪জন নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও প্রাণহীনভাবে পড়েছে আছে এক সময়কার কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকা মিলটি। মিলটিতে ৯০টি মেশিন থাকলেও অর্ধেকের বেশি পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ মিলটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে মিলটি কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে। এই মিলের মুনাফা দিয়ে সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের দ্বিতীয় ইউনিট নীল কমল, আমিন টেক্সটাইল মিলের দ্বিতীয় ইউনিট চট্টগ্রামে এবং বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের দ্বিতীয় ইউনিট যশোরে স্থাপন করা হয়। ১৯৯৩ সালের দিকে পাকিস্তান থেকে নিম্নমানের তুলা চড়া দামে আমাদানি করার পর প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে পড়ে। এরপর থেকে এই মিলটি আর কখনো লাভের মুখ দেখেনি।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালের দিকে মিলটির প্রাণ ফেরাতে সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে চালু করা হয় উৎপাদন কার্যক্রম। কিন্তু বেশি দামে কাঁচামাল ক্রয় ও শ্রমিক মজুরি পরিশোধের ক্ষেত্রে অনিহার মধ্য দিয়ে ২০০১ সাল পর্যন্ত মিলটির উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত ছিলো। তবে ২০০৭ সালের দিকে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সারাদেশের মিলগুলো একযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মিলটিতে কর্মরত শ্রমিকদের স্বেচ্ছায় অবসরে পাঠানো হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার যুক্তি দেখায় যে, স্থায়ী শ্রমিকের মজুরি বেশি, স্থায়ী শ্রমিকদের বের করে দিয়ে যদি অস্থায়ী ভিত্তিতে নতুন করে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে মিলগুলো লাভজনক হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে সরকারের এ পলিসি ভুল ছিল, দক্ষ শ্রমিকরা অত অল্প টাকায় চাকরি করেনি। ফলে বিটিএমসি মিলগুলো আর লাভজনকভাবে চালাতে পারেনি। মিলটিতে এখন যেসব মেশিন আছে, তার যে স্পিড প্রাইভেট মিলসগুলোর মেশিনে তার দ্বিগুণ স্পিড। যদিও বর্তমানে পুরাতন মেমিনের স্পিড আরও কমে গেছে।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এই মেশিনে কাজ করে লাভতো দূরের কথা আসলই উঠবে না। সর্বশেষ ২০১৭ সালে ভাড়া পদ্ধতিতে মিলের উৎপাদন কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা হলেও ৮০ দশকের মেশিনের উৎপাদন ক্ষমতা কম থাকা ও বাণিজ্যিক রেটে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ায় প্রতিমাসে ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করতে হতো। এ কারণে ভাড়া পদ্ধতিও ব্যর্থ হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৎকালীন একাধিক শ্রমিক জানান, এই মিলে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা অনেক অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনেক দূর থেকে ১ টাকার কাঁচমালের ক্রয় মূল্য ৫০ টাকা দেখানোর কারণে মূলত ধস নামতে থাকে। এখানে অল্প টাকা মজুরিতে আমরা কাজ করতাম, কিন্তু সরকারের পলিসির কারণে আমাদের চাকরি চলে যায়। আমরা খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি। ২০০৭ সালের দিকে বাধ্যতামূলক চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর পরিবার নিয়ে খুব মানবেতর জীবনযাপন করছি। ধীরে ধীরে সবাই অন্য কাজের সাথে নিজেদের জড়িয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি নতুন করে আবার মিলটি চালু করা হোক। একই সাথে আমাদের মজুরি বৃদ্ধিসহ চিকিৎসা ভাতা, মাতৃকল্যাণ সুবিধা, ক্যানটিন সুবিধা, নাইট এ্যালাউন্স, হাজিরা বোনাস এবং বার্ষিক দুই ঈদে দুটো উৎসব বোনাসসহ বিভিন্ন সুবিধা দিলে আমরা এই মিলে কাজ করে বাকি জীবনটা পার করে দিতে পারবো।
সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের মিল ইনচার্জ শেখ খলিলুর রহমান বলেন, বিটিএমসি’র আওতাধীন এ মিলটি নতুন করে উৎপাদনমুখী করতে হলে ৮০ দশকের এই মেশিনগুলো পরিবর্তন করে নতুন মেশিন স্থাপন, কাঁচামাল ক্রয়নীতি, শ্রমিক মজুরি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাহেল মিলটি চালু করে সাতক্ষীরার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সবার আগে নজর দিতে হবে কোথা থেকে কাঁচামাল ক্রয় করলে আমার উৎপাদন খচর কম হবে তার উপর। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মিলটি চালু করার সদিচ্ছা থাকতে হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।