মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা: দেবহাটার সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। ফলশ্রুতিতে শংকিত হয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক। বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের ছাদের অধিকাংশ জায়গায় ফাটল দেখা দেওয়ায় ও জরাজীর্ণ ছাদের বিভিন্ন অংশ খসে পড়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে। শ্রেণিকক্ষ সংকট কাটাতে নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় ধরণের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে সখিপুর, কামটা, কাজিমহল্যা, ঈদগাহ, তিলকুড়াসহ কয়েকটি গ্রামের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সুশিক্ষিত করতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান খুব সন্তোষজনক। বর্তমানে এখানে প্রায় পাঁচশ ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে ২৫ জন। এখানে মাধ্যমিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি (ভোকাশেনাল) বিভাগও চালু রয়েছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে ফ্যাসলিটিজ ডিপাডমেন্ট একটি নতুন ভবন তৈরি করে। এরপর সরকারিভাবে আর কোন ভবন নির্মাণ করা হয় বিদ্যালয়টিতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির অধিকাংশ স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও ছাদের অংশ ভেঙে পড়ছে। প্রধান শিক্ষককের জন্য নেই আলাদা কোন অফিস রুম। নেই কমনরুমও। শ্রেণিকক্ষ সংকটে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাস নেওযার ব্যবস্থা থাকলেও তা চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। রয়েছে বিদ্যালয়ের চত্বরে ফুল ও ফলের বাগান এবং ম্যানেজিং কমিটির দক্ষ মনিটরিং ব্যবস্থা।
বিদ্যালয়ের ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, আমরা ক্লাস করি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। মনে হয় কখন যেন বিল্ডিং ধ্বসে পড়ছে। সরকারের কাছে দাবি, আমাদের বিদ্যালয়ে নতুন ভবন তৈরি করে শ্রেণিকক্ষ সংকট দূর করে দিন, তাহলে আমরা নিরাপদে লেখাপড়া করতে পারব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ তহিরুজ্জামান জানিয়েছেন, বর্তমানে পুরাতন ভবন একেবারে ক্লাস নেওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে । কিন্তু তারপরেও রুম সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে সেখানে ক্লাস করাতে হচ্ছে। তবে দুঃখের বিষয় হল, ১৯৭১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ফ্যাসলিটিজ বিভাগের ছাড়া আর কোন বিভাগ থেকে ভবন না পাওয়ায় পুরাতন ভবনে খুব ঝুঁকিতে ক্লাস করাতে হচ্ছে। জরাজীর্ণ ওই ভবনের ছাদের পলেস্তরা বিভিন্ন সময়ে খসে পড়ছে। ইতোপূর্বে উপজেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও পরিদর্শন করেছেন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ আমাদের যদি একটি নতুন ভবন বরাদ্ধ প্রদান করে, তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পাঠদান করতে পারব।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন বলেন, সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের খুবই প্রয়োজন। এখানে ঝুকিঁপূর্ণ ভবনে ছেলে-মেয়েরা ক্লাস করছে। আমি নিজেই কিছু বরাদ্দ দিয়ে ফাটলের কিছু অংশের প্লাস্টার করে দিয়েছি, কিন্তু সেটিও নিরাপদ নয়। তাই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নজর দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, আমরা বিষয়টি দেখছি। তাছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
এদিকে, দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
