কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের সন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সরেজমিনে বুধবার (১০ এপ্রিল) স্কুলে গেলে ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর পিতা জানান, উপজেলার নলতা ইউনিয়নের পূর্ব-নলতা গ্রামের মৃত ইমান আলী মোল্লার ছেলে ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম স্কুলে যোগদান করার পর হতে তার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে নানাভাবে কু-প্রস্তাব এবং যৌন হয়রানি করে আসছিল।
গত সোমবার সকালে স্কুল শিক্ষক শহিদুল তার মেয়েকে পাশের একটি রুমে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা চালালে সে জোর পূর্বক ছিনিয়ে চলে গিয়ে তাকে জানায়। পরে ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয়রা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিকট বিষয়টি জানালে প্রধান শিক্ষক সাথে সাথে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান।
স্কুল ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সরেজমিনে তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
তদন্তকালে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষক শহিদুল ইসলামের অপসারণ ও চাকুরীচ্যুত করার দাবি জানান। তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে আপাতত ছুটি দিয়ে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষিক শিবানী রাণী ঘোষ এবং স্কুলের পরিচালনা পর্যদের সভাপতি মুছা করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি এর আগেও ৬-৭টি স্কুলে থাকাকালীন সময় ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন হয়রানির ঘটনা মোটা অংকের টাকায় ধামা চাপা দিয়ে সর্বশেষ সন্যাসীর চক স্কুলে বদলী হয়ে এসেছেন।
তবে এ ব্যাপারে শিক্ষক শহিদুল ইসলাম সব অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে সবই একটি মহলের চক্রান্ত।
