ডেস্ক রিপোর্ট: দুঃখ-কষ্ট ও ব্যর্থতাকে পিছনে ফেলে সফলতার মুখ দেখেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পাঁচ নারী। আর এরই স্বীকৃতি হিসেবে তারা অর্জন করেছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর প্রদত্ত জয়িতা সম্মাননা।
এদেরই একজন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী কাটিয়ার মৃত মোকছেদুর রহমানের স্ত্রী আম্বিয়া সুলতানা। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর হতাশা আর অন্ধকার নেমে আসে তার জীবনে। এরপর সে দর্জি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে জীবন সংগ্রাম শুরু করে। দর্জি কাজের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসার ও দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন তিনি।
তার বড় ছেলে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে সাতক্ষীরার দি অক্সফোর্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলে কেজি শ্রেণিতে পড়ে। তিনি তার সন্তানদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে। জীবনযুদ্ধে সাফল্য অর্জনকারী এই দর্জি প্রশিক্ষক বর্তমানে কয়েকজন নারীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
আরেক জয়িতা হলেন শহর বানু। তিনি সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন। বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমান ও আয়েশা খাতুনের মেয়ে শহর বানু একজন মহিলা ইউপি সদস্য এবং তালাকপ্রাপ্ত নারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের জন্য ভিজিডি, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও সরকারের সকল অনুদান সঠিকভাবে বিতরণ করে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী মনিরা খাতুন। তিনিও একজন জয়িতা। শিক্ষা ও চাকুরীর মাধ্যমে জীবনের সফলতা ফিরে পেয়েছেন তিনি। সোনারডাঙ্গা গ্রামের জিয়ারুল মোড়লের স্ত্রী মনিরা খাতুন সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ্য কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। অনেক বাঁধা বিপত্তির মধ্যে দিয়ে বি.এ পাশ করার পর বর্তমানে একটি প্রি-ক্যাডেট স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। একই সাথে খুলনা বি.এল কলেজে ভর্তি হয়ে এম.এ অধ্যয়নরত আছেন।
একজন সফল জননী হলেন জাহানারা খাতুন। তিনি কামার বায়সা গ্রামের চাঁদ আলীর স্ত্রী এবং তারাভান বিবির কন্যা। তিনিও একজন সফল জয়িতা। তার স্বামী একজন দিনমজুর। অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দুইটি সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। বর্তমানে বড় ছেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন এবং ছোট ছেলে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষে পড়াশুনা করছেন।
নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নব উদ্দম্যে জীবন শুরু করেছেন সরিফা বেগম। তিনি তালতলা গ্রামের হাফিজুর রহমানের স্ত্রী। তিনিও সফল জয়িতা। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে যৌতুকের কারণে নানা নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চলে আসেন বাপের বাড়িতে। তারপর পুনরায় লেখাপড়া শুরু করে স্নাতক পাশ করেন। পরে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দুই বছরের জন্য ন্যাশনাল সার্ভিসে যোগদান করে। এ ছাড়া ব্র্যাক থেকে ৫০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে দু’টি গরু কিনে সেটি লালন-পালন করছেন। বর্তমানে তার গোয়ালে তিনটি গরু আছে। যার আনুমানিক মূল্য ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা। তিনি এখন স্বাবলম্বী।
জীবন যুদ্ধে হার না মানা এসব জয়িতারা হতে পারেন অনুকরণীয়।
