ঢাকাSaturday , 6 April 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

একটি হুইল চেয়ারের অভাবে স্কুলে যেতে পারে না মুনতাহ

admin
April 6, 2019 10:49 pm
Link Copied!

মনজুরুল হাসান বাবুল, খেশরা (তালা): মুনতাহ (৭)। তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের দিনমুজুর আলতাফ হোসেন খাঁর মেয়ে মুনতাহ শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। জন্মের পর থেকেই মুনতাহার দুই পা অকেজো। বয়স যখন চার মাস তখন তার পায়ে প্রথম অপারেশন করা হয়। তারপর তিন বছর বয়সের মধ্যে চার বার অপারেশন করা হয়। তারপরও প্রতিবন্ধিতা কাটেনি তার, ভালভাবে হাটতে পারে না সে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে অনেক কষ্টে হাঁটা চলা করতে হয় তাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মুনতাহার পা ভাল হওয়ার জন্য উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সেটা তার হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু মুনতাহ’র এই অবস্থার পরও বিভিন্ন জায়গায় ধরণা দিয়েও সরকারি প্রতিবন্ধী কার্ড করতে ব্যর্থ হয়েছে তার পরিবার। এমনকি জোটেনি একটি হুইল চেয়ার। হুইল চেয়ারটি পেলেও তার স্কুল যাওয়ার কষ্টটুকু লাঘব হতো বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
মুনতাহ’র বাবা আলতাফ হোসেন বলেন, জন্মের পর থেকেই মুনতাহার দুই পা অকেজো ছিল। বয়স যখন তিন মাস, অনেক কষ্টে টাকা যোগাড় করে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানান তার দুই পায়ের সঙ্গে কোমরের এবং হাটুর কোন সংযোগ নেই। অপারেশন করে জোড়া লাগাতে হবে। চার মাস বয়সে তার পায়ের প্রথম অপারেশন করা হয়। দেড় বছর বয়স অতিক্রম করার পরও সে দাঁড়াতে না পারায় দ্বিতীয় অপারেশন করার জন্য তাকে আবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ধার-দেনা করে এবং মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে তিন বছর বয়সের মধ্যে তার মোট চার বার অপারেশন করা হয়। তারপরও সে ভালভাবে হাটতে পারে না। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে অনেক কষ্টে হাঁটাচলা করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মুনতাহার পা ভাল হওয়ার জন্য আরো উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ওর জন্য একটি প্রতিবন্ধী কার্ড করতে অনেকের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
মুনতাহার মা কুলসুম বেগম বলেন, স্কুল থেকে আমাদের বাড়ির দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। ওকে কোলে নিয়ে স্কুলে যায়। কষ্ট হলেও মেয়ের প্রচ- ইচ্ছার কারণে তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে হয়। দুই এক দিন আমি না গেলে একা অনেক কষ্ট করে আস্তে আস্তে হেঁটে স্কুলে যায়। যদি একটা হুইল চেয়ার দিতে পারতাম তাহলে তার স্কুলে যেতে আর এত কষ্ট হতো না। কিন্তু অভাবের সংসারে আমরা সেটা পারছি না।
শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জায়েদা খাতুন বলেন, মুনতাহ পড়াশুনায় অত্যন্ত মনোযোগী। কিন্তু দুই পা বিকালঙ্গ হওয়ায় সে সময়মত স্কুলে আসতে পারে না। প্রায়ই তার মা তাকে কোলে করে স্কুলে নিয়ে আসে। স্কুলের পক্ষ থেকে সরকারি সব রকম সুবিধা আমরা তাকে দিচ্ছি। কিন্তু সেগুলো তার প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম।
তালা উপজেলার নবনির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুরশীদা পারভীন পাপড়ি বলেন, আমি ব্যক্তিগত াবে মুনতাহকে সহযোগিতা করেছি। এই অসহায় মেয়েটির এখনও পর্যন্ত প্রতিবন্ধী কার্ড হয়নি, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। মুনতাহ যাতে অতিদ্রুত প্রতিবন্ধী কার্ড হয় তার ব্যবস্থা করা হোক।
এই অসহায় পরিবারটি প্রতিবন্ধী মুনতাহ’র জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন। সহযোগিতা পাঠানোর জন্য ০১৭৩৯-৫৮০২৩৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।