কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পুলক সরকার ও এলজিইডি’র সুপারভাইজার আশিস কুমারের বিরুদ্ধে রাস্তার ইট তুলে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ইট তোলার ফলে ওই রাস্তায় চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমের প্রাক্কালে ইট তুলে নেয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এদিকে, এ ঘটনায় নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান পাড়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (১ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে তদন্তে যান কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। সরকারি রাস্তার ইট তুলে বিক্রি করেছে নলতা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পুলক সরকার ও এলজিইডি’র সুপারভাইজার আশিস কুমার। ইট বিক্রির ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে পুলক সরকার আর ১০ হাজার নিয়েছে আশিস কুমার। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, নলতা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত কাজলা হাটখোলা থেকে উত্তর কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৮শ’ মিটার ইটের সোলিং রাস্তার প্রায় ৫০ হাজার ইট তুলে জনৈক মনিরুল ইসলামের কাছে বিক্রয় করেছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পুলক সরকার। একাজে তাকে সহায়তা করেছে এলজিইডি’র সুপারভাইজার আশিস। ইট তোলার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানকে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
তারা জানান, পুলোক সরকারের বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক মন্দিরের নামে বরাদ্দকৃত সোলার নিজের বাড়িতে লাগিয়েছেন তিনি। এছাড়াও অন্য এক মন্দিরের সোলার আত্মসাত করার পর বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় চাপের মুখে তিনি সেটি ফেরত দেন। এর আগে তিনি মন্দিরের নামে বরাদ্দকৃত টাকা তুলে আত্মসাত করেন। তারা বলেন, মন্দির কমিটির সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদক- যাই বলেন সব তিনি নিজেই। তার ইচ্ছা অনুযায়ী চলে সব কাজ। এমনকি রাস্তার ইট তোলার বিষয়টি মন্দির কমিটির কেউ জানেন না বলে জানা গেছে।
এদিকে উপজেলা এলজিইডি’র সুপারভাইজার আশিসের বিরুদ্ধেও এর আগে রাস্তার ধারের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
