ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হলেও ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। সকাল ৮টা থেকে জেলার ৫৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
রোববার সকালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পিএন হাই স্কুল, পশ্চিম মাছখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ কাটিয়া চক্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম। ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজনসহ প্রার্থীদের কয়েকজন করে কর্মী সমর্থক দেখা গেলেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম। অন্যান্য নির্বাচনের ন্যায় এই নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের পক্ষে ভোটার স্লিপ দেওয়ার কাজ কর্মও সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে।
এদিকে ধানদিয়া প্রতিনিধি জানান, ভোটার উপস্থিতি নেই বললেই চলে তালার ধানদিয়া ফুলবাড়ি কেন্দ্রে। খোশ গল্পে মজার সময় কাটাচ্ছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এই কেন্দ্রে দেড় ঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র ১০টি।
তালা প্রতিনিধি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তালার খলিলনগর নলতা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ভোটার উপস্থিতি থাকলে আজ তা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। 
একই সাথে তালা বিদে হাই স্কুল কেন্দ্রও ভোটার শূন্য। বেশ কিছুক্ষণ পরপর একজন দু’জন করে আসছেন, কেউ ভোট দিচ্ছেন, কেউ ঘুরে চলে যাচ্ছেন।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, কলারোয়ার বাটরা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের শুরুর সময় দুই উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও র্যাব-বিজিবির উপস্থিতিতে তা প্রশমিত হয়। সেখানে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে, আশাশুনির ২৬নং আগরদাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাঙ্গামার কারণে কিছুক্ষণের জন্য ভোট গ্রহণ স্থগিত ছিল। পরবর্তীতে আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২০জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৩ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে অবর্তীণ হয়েছেন।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২০জন প্রার্থীর মধ্যে শ্যামনগরে জাতীয় পার্টির একজন ও দেবহাটায় এনপিপির একজন ছাড়া বাকীরা সবাই আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। নিজস্ব দলীয় পরিচয়ের বাইরেও রয়েছেন দুই একজন প্রার্থী।
অপরদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও বেশির ভাগ প্রার্থী আওয়ামী লীগের। বড় কোন দল উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় মূলত আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ লড়াইটাই জমে উঠেছে।
