এস এম নাহিদ হাসান: দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা শ্যামনগর। ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা এই উপজেলাতে ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৭ জন। আসছে ২৪ মার্চের শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২ জন প্রার্থী। নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার প্রতিটি অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টার-ব্যানারে। চলছে গণসংযোগ, এবং মটরসাইকেল শোডাউন। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রচার প্রচারণা। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাড়া-মহাল্লায় চলছে মাইকিং। নিজ নিজ কর্মী-সমর্থক নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি, চলছে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে নানা ছন্দ আর গানে মাতোয়ারা সর্বত্র।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিন জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করছেন।
এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম আতাউল হক দোলন নৌকা প্রতীক, স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ জি.এম ওসমান গনি দোয়াত-কলম প্রতীক ও জাতীয় পার্টি মনোনীত অ্যাডভোকেট ডি.এম আজিবর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অপরদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সাইদ-উজ-জামান সাঈদ টিউবওয়েল প্রতীক, শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মিজানুর রহমান উড়োজাহাজ প্রতীক, শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মুন্সিগঞ্জ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অসীম মৃধা টিয়াপাখি প্রতীক, শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক স.ম আব্দুস সাত্তার তালা প্রতীক, শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন চশমা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মিসেস পাপিয়া হক কলস প্রতীক, নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা পদ্মফুল প্রতীক, খালেদা আইয়ুব ডলি হাঁস প্রতীক ও মিসেস নাফিজা রাজ্জাক ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।
সূত্র আরও জানায়, ২ লাখ ৫৩ হাজার ১৭ ভোটারের এই উপজেলাতে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৯ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৩৮ জন। এদিকে, উপজেলার মোট ৮৯টি ভোটকেন্দ্রের ৫৭৩টি স্থায়ী কক্ষ ও ৪৯টি অস্থায়ী কক্ষে ভোট গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ।
তবে, সকল হিসাব নিকাশ চূড়ান্ত হবে ২৪ মার্চ ভোটের ফলাফলের মধ্য দিয়ে- এমনটি মনে করছেন উপজেলার সাধারণ ভোটারা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদানের ব্যাপারেও সন্দিহান অনেকে। তবে সব কিছুর পরেও নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান তরুণ ভোটাররা।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম আতাউল হক দোলন নানা প্রতিশ্রুতির ফুল ঝরিয়ে উপজেলার আনাচে কানাচে ভোট প্রার্থনা করে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলায় তার পরিচিতিও রয়েছে বেশ। যদিও সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ তার বিরোধিতা করছে।
একই সাথে দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ জি.এম ওসমান গনি সাধ্য মত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক দোলনের বিরোধী গ্রুপটি জি.এম ওসমান গনির পক্ষে নানাভাবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ডি.এম আজিবর রহমানও যাচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস.এম আতাউল হক দোলন বলেন, ২৪ মার্চের নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আমাকে নৌকা প্রতীক দেওয়ায় শ্যামনগরের সর্বস্তরের মানুষ খুব খুশি। ভোটের মাঠের পরিবেশ ভাল হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে ভোট দিতে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন, প্রভাবিত করছেন। তারপরও ২৪ তারিখ নৌকা প্রতীকে ভোটদানের জন্য তারা মুখিয়ে আছে।
দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ জি.এম ওসমান গনি বলেন, ২৪শে মার্চ সারা দিন উপজেলার মানুষ দোয়াতকলম প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। তবে, অন্য প্রার্থীর লোকেরা আমার কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তারপরও সব বাধা কাটিয়ে জয় আসবেই।
জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ডি.এম আজিবর রহমান বলেন, ভোটের পরিবেশ এখনো ভাল। সুষ্ঠু ভোট হলে আমরা বিপুল ভোটে জিতবো।
