ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার বিনেরপোতার মহেন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে স্থানীয় বখাটেদের সহযোগিতায় জমি দাবি করে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সদর উপজেলা বিনেরপোতা গ্রামের মৃত যতিন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে বিমল চন্দ্র মন্ডল এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিনেরপোতা মৌজায় ডিএস-১০৯, এসএ-১৪৫ খতিয়ানে ৫৩৬২, ৫৩৬৩ ও ৫৩৬৫ দাগে সাড়ে ১৫ শতক জমি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে আমরা তিন ভাই বিমল চন্দ্র মন্ডল, কন্ঠ রাম মন্ডল ও পূর্ণরাম মন্ডল বসত ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি পূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি একই এলাকার সুধন্য কুমার মন্ডলের ছেলে মহেন্দ্র নাথ তার দাদু নকুল কুমার পাড়–ইয়ের ওয়ারেশ হিসেবে আমাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে তাদের অংশ আছে বলে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের আমিন দ্বারা মাপ জরিপ শেষে সদর থানায় একটি আপোষনামা করে উভয়পক্ষকে জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও সুধান্য গংরা আবারো জমি দাবি করে আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে একটি মামলায় তারা হাজিরা না দেয়ায় আদালত সেটি খারিজ করে দেয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সাতক্ষীরা সহকারী জজ আদালতে আবারো একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। যার বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহেন্দ্র নাথ তার দাদু নকুল কুমারের ওয়ারেশ হিসেবে সম্পত্তি দাবি করছে। প্রকৃতপক্ষে বিনেরপোতা মৌজায় ডিএস-১০৯, এসএ-১৪৫নং খতিয়ানের ৭টি দাগের মধ্যে ৩টি দাগে মোট ৬২ শতকের মধ্যে ৩১ শতকের মালিক হীরালাল পাড়ুই ও পরেশ নাথ পাড়ুই। হীরালালের দুই ছেলে নকুল ও সুশীল। আর পরেশ নাথ পাড়ুইয়ের এক ছেলে যতিন্দ্র নাথ পাড়ুই। সে ক্ষেত্রে ওই ৩১ শতকের মধ্যে হীরা লাল পাবে সাড়ে ১৫ শতক ও পরেশ নাথ পাবে সাড়ে ১৫ শতক। আর হীরালালের সম্পত্তি থেকে নকুল পাবে ৭.৭৫ শতক ও সুশীল পাবে ৭.৭৫ শতক। এর মধ্যে নকুলের আবার ৪ ছেলে। এরমধ্যে তিন জন অবিরাম, আশুতোষ ও পরিতোষ ভারতীয় নাগরিক। সে অনুযায়ী নকুলের ৭.৭৫ শতকের মধ্যে সুধন্য ভাগ পাবে ১.৯৩ শতক। তাহলে তারা কিভাবে ১৬ শতক সম্পত্তি দাবি এটা আমাদের বোধগম্য নয়।
অথচ বিগত মাপ জরিপের সময় মহেন্দ্র মাপ জারিকারককে ম্যানেজ করে ৭.৭৫ শতক জমি নিজ অবৈধভাবে রেকর্ড করে নেন। যা জালিয়াতির সামিল। এছাড়া মহেন্দ্রের অত্যাচারে সুধন্য কুমারের তিন ভাই ভারতে যেতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, আমি স্বাস্থ্য বিভাগের একজন অবসরপাপ্ত সরকারি কর্মচারী হওয়ার পরও তারা স্থানীয় বখাটেদের সহযোগিতায় আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি প্রদর্শন করে আসছে।
তিনি এ সময় তার কাগজপত্র সঠিক দাবি করে আরো বলেন, আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মহেন্দ্র নাথ আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভুল বুঝিয়ে সোমবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং একই সাথে অনৈতিক দাবিকারী মহেন্দ্র নাথ ও তার ছেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
