এস এম নাহিদ হাসান: চৌদ্দটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা সদর উপজেলা। তিন লাখ ৫৬ হাজার ৩২৫ ভোটারের এই উপজেলাতে আগামী ২৪ মার্চ পঞ্চমবারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার প্রতিটি অলি-গলি চেয়ে গেছে পোস্টারে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রচার প্রচারণা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। চলছে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ। সড়কের দুধারে, গাছে টানানো হয়েছে প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টার।
জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, সদর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন।
এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান বাবু নৌকা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম শওকত হোসেন আনারস ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. গোলাম মোরশেদ মটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। এদের মধ্যে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী (মাইক), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন (টিউবওয়েল), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী আকতার হোসেন (উড়োজাহাজ), সাবেক ছাত্রনেত্রা রাশিদুজ্জামান রাশি (চশমা), সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিজান (তালা) ও অ্যাডভোকেট তামিম আহমেদ সোহাগ (টিয়া পাখি) নির্বাচনে লড়বেন।
এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোহিনুর ইসলাম (প্রজাপতি), সোনিয়া পারভিন শাপলা (ফুটবল) এবং তহমিনা ইসলাম পেয়েছেন (কলস) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা নির্বাচন অফিস। চৌদ্দটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১লাখ ৭৭ হাজার ৩৩১ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৪ জন। ১৩৭টি ভোট কেন্দ্রের ৭৫৯টি স্থায়ী কক্ষে ও ১১৫টি অস্থায়ী কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে।
তবে, নির্বাচনে জিততে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রত্যেক প্রার্থীই। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণাই সে কথা বলছে।
চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান বাবু তার বর্তমান উন্নয়ন কর্মকা- অব্যহাত রাখতে, তৃণমূল মানুষের মাঝে সরকারের নানা উন্নয়নমুখী কার্যক্রমের সুষ্ঠু বণ্টন ধরে রাখতে পুরনায় তাকে নির্বাচিত করতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পাশাপাশি আনারস প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম শওকত হোসেন ভোটের মাধ্যমে তাকে নির্বাচিত করে উপজেলার সাধারণ মানুষের সেবা করার সুযোগ চেয়ে গণসংযোগ করছেন। একই ভাবে মটর সাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোরশেদ ভোটারদের মনজয়ে নানামুখী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
ভোটারদের ধারণা, চেয়ারম্যান পদে নৌকা ও আনারস প্রতীকে লড়াই জমবে।
এদিকে, সাধারণ ভোটারদের ধারণা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। লড়াই হবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও।
যদিও ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতির উপর ফলাফল নির্ভর করবে অনেকটা।
এ প্রসঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, আল্লাহর রহমতে আমি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ভোটাররা নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ।
আনারস প্রতীকের প্রার্থী এসএম শওকত হোসেন বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে আনারসের বিপুল জয় হবে।
মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী গোলাম মোরশেদ বলেন, ভোটের আবহাওয়া এখনো ভাল। শুনেছি নৌকা ও আনারস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফায় ঝামেলা হয়েছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। সর্বস্তরের ভোটাররা আমাকে আশ্বস্ত করছে।
