ঢাকাSaturday , 16 March 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে পরিচালনা কমিটির কর্তৃত্ব নিয়ে বিশৃঙ্খলা!

admin
March 16, 2019 11:10 pm
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে পরিচালনা কমিটির কর্তৃত্ব নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে চিকিৎসকদের উপর হামলার মাধ্যমে এই বিশৃঙ্খলা প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
হামলার ঘটনা উল্লেখ করে সাতক্ষীরা সদর থানার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও হাসপাতালের নির্বাহী প্রধান ডা. এস এম জাকির হোসেন জানান, ১৯৮৬ সালে সাতক্ষীরার রসুলপুর এলাকায় ২ একর জমির উপর সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালটি গড়ে তোলেন দেশবরেণ্য শিশু বিশেষজ্ঞ মরহুম ডা. এম আর খান। তিনিই এই হাসপাতালের নামে জমিদান করেন। বর্তমানে এই হাসপাতালে অন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ বিভাগ চালু রয়েছে। হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে ৫০টি শয্যা বা বেড রয়েছে। শুক্রবার বাদে সপ্তাহের বাকী ৬দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে ৫০ টাকা করে ফি নিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা কমিটি রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদাধিকারবলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে নানা সংকট তৈরী হয়। ডা. এম আর খানের জীবদ্দশায় তারই প্রচেষ্টায় এসব সমস্যার সমাধানও তিনি করে গেছেন। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৬ জন ডাক্তারসহ মোট ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তারা দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
তিনি আরো জানান, সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ডা. এম আর খান ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আমাকে (ডা. এসএম জাকির হোসেন) কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন এবং ওই হাসপাতালের নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেন। আমি যখন হাসপাতালে যোগদান করেছি তার আগে থেকেই হাসপাতালে অর্থনৈতিক সংকট চলছিলো। সে সময় হাসপাতালের স্টাফদের ৩ মাসের বেতন বকেয়া ছিলো। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই হাসপাতালে সেবার মানউন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিতে থাকি। এরই মধ্যে ডা. এম আর খান স্যার (এক বছর আগে) মারা যান। আমি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে হাসপাতালের অর্থনৈতিক সব ধরনের সংকট কাটিয়ে বর্তমানে ২০ লাখ টাকা হাসপাতাল ফান্ডে জমা রেখেছি। বকেয়া পরিশোধ করে সকল স্টাফদের বেতন রেগুলার করেছি। স্টাফরা প্রতিমাসের বেতন প্রতিমাসেই পেয়ে থাকেন।
ডা. জাকির বলেন, গত ৯ মাস আগে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু কে এই কমিটির সদস্য সচিব হবেন তা নিয়ে খান পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের কারণে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ৯ সদস্যের একটি আহবায়ক কিমিট গঠন করে দেন। উনি চলে যাওয়ার পর সভাপতির দায়িত্ব পান পরবর্তী জেলা প্রশাসক মো. ইখতেখার হোসেন। তিনিও এসে খান পরিবারের বিরোধ সমাধান না করতে পেরে ওই আহবায়ক কমিটিই বহাল রাখার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে ৯ সদস্যের ওই অহবায়ক কমিটি দিয়ে হাসপাতালটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে হাসপাতালটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
সূত্র জানায়, ডা. এম আর খান এক বছর আগে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে (ডা. এম আর খানের হাতে গড়া) এই প্রতিষ্ঠানটি একটি মহল দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করে। ডা. এম আর খানের পরিবারের কেউ কেউ হাসপাতালটি অকার্যকর করতে নানা ষড়যন্ত্র, নানা অপপ্রচার শুরু করেছে। তারা হাসপাতালের ওই জমি জবর-দখলে নিতে পায়তারা চালাচ্ছে। খান পরিবারের একটি পক্ষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি দাবি করলেও অপর পক্ষ তা চান না। এ নিয়ে খোদ খান পরিবারে বিরোধ তুঙ্গে। তাদের একটি পক্ষ হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য ওই আহবায়ক কমিটি চায়। আর যে পক্ষটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দাবি করেন তারাই শনিবার সকালে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছান ডা. নূর মোহাম্মদ, ৮ টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছান শিশু বিশেষজ্ঞ ও হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী ডা. এস এম জাকির হোসেন এবং ৮ টা ৫৯ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছান ডা. আব্দুর রাজ্জাক। সকাল ৯ টার মধ্যে তাদের হাসপাতালে পৌঁছানোর নিয়ম। নির্ধারিত সময়ের আগেই ডাক্তাররা হাসপাতালে পৌঁছে যান। কিন্তু আগে থেকে সেখানে অবস্থান করছিল বেশকিছু উশৃঙ্খল যুবক। ডাক্তারা সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ডা. নূর মোহাম্মদকে সন্ত্রাসীরা তার চেম্বারে যেতে বাধা প্রদান করেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেন। তার পরপরই সেখানে মটরসাইকেলযোগে হাজির হন ডা. এস এম জাকির হোসেন। তাকেও হাসপাতালে ঢুকতে না দিয়ে ডিসি সাহেব না আসা পর্যন্ত সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। এ সময় ডা: জাকিরের বহনকারী মটরসাইকেলর চালক ইনসেফটা কোম্পানির ম্যানেজার আব্দুল জলিল তাদের কথার প্রতিবাদ করলে রসুলপুরের কয়েকজন তাকে পিটাতে শুরু কারে। কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা তাকে হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেঁটে যায়। সে সেখানে লুটিয়ে পড়ে। এরপর ডা. আব্দুর রাজ্জাক সেখানে পৌঁছালে তাকেও নানাভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এক পর্যায়ে লাঞ্ছনার শিকার ওই তিনজন ডাক্তার কৌশালে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
শনিবার দিনভর ওই হাসপাতালে কোন ডাক্তার ভয়ে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যান। বিড়ম্বনায় পড়েন ভর্তি রোগীর অভিভাবকরা। হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের সদস্য লিয়াকত পারভেজ জানান, বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ^াস দিয়েছেন।
সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও নির্বাহী প্রধান ডা. এস এম জাকির হোসেন ভ জানান, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যায় হামলার ঘটনা উল্লেখ করে আমি বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। ওই অভিযোগপত্রে হামলাকারীদের নামসহ ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।