মো. আশিকুর রহমান, নওয়াবেঁকী (শ্যামনগর): আয়তনে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা শ্যামনগর। ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন পদ্মপুকুর ও গাবুরাসহ কাশিমাড়ী, আটুলিয়া ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ২০০৯ সালে আইলার আঘাতে ল-ভ- হয়ে যায়। শ্যামনগর সদর থেকে বেশি দূরের এই পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ আইলার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছে। ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মৎস্য চাষের উপর নির্ভরশীল। আর এই পাঁচটি ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র নওয়াবেঁকী বাজার।
স্থানীয়রা জানান, উপকূলের মানুষ কৃষি ব্যাংকের সেবা থেকে বঞ্চিত। এজন্য নওয়াবেঁকী বাজারে কৃষি ব্যাংকের শাখা স্থাপন করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি ব্যাংকের বিদ্যমান শাখা শ্যামনগর সদরে হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের সেখানে গিয়ে সেবা পেতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া রয়েছে নানা তদবীর ও দালালি চক্রের ফাঁদও। ফলে কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে প্রত্যয় সরকারের রয়েছে তা ব্যাহত হচ্ছে। তাই সুবিধাবঞ্চিত থেকেই যাচ্ছে প্রান্তিক কৃষক ও জনগোষ্ঠী। তাই উপজেলার মাঝামাঝি নওয়াবেঁকী বাজারে কৃষি ব্যাংকের একটি শাখা স্থাপন করা হলে উপকূলবর্তী ৫টি ইউনিয়নের কৃষকরা দারুন উপকৃত হবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
আটুলিয়ার কৃষক মো. আব্দুর রউফ জানান, এখানে কৃষি ব্যাংক হলে সরাসরি কৃষি ঋণ পাওয়া যাবে। সময় ও শ্রম লাঘব হবে। পদ্মপুকুরের বাইনতলা গ্রামের কৃষক আবু সাদেক মনে করেন, নওয়াবেঁকী বাজারে কৃষি ব্যাংক হলে যাতায়াত সুবিধাসহ কৃষিবীজ সার ও কীটনাশক পেতে সুবিধা হবে, ফলে তাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার মৎস্যচাষী মো. মাফুজ আলী বলেন, নওয়াবেঁকীর সাথে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ। তাই এখানে কৃষি ব্যাংক হলে কৃষকদের সঞ্চয় মনোভাব গড়ে উঠবে এবং প্রয়োজনীয় মূলধন পাওয়া যাবে।
১০নং আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আবু সালেহ বাবু বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়ন ও নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে নওয়াবেঁকী বাজারের উপর নির্ভরশীল। এখানে কৃষি ব্যাংকের শাখা স্থাপনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং সরকার ও কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
