কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক দুঃাহসিক চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ কালিগঞ্জের নলতা এলাকার বাসিন্দারা সোমবার দুই চোরকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, দিনে বা রাতে অভিনব কায়দার গ্রিল কেটে, ঘরের তালা ভেঙে ও আলমারি ভেঙে বারবার স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোন কুলকিনারা করতে পারেনি। আটক হয়নি চোরচক্রের কোন সদস্য। এর ফলে জনমনে চোর আতংক সৃষ্টি হয়।
সোমবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে নলতা কলেজের সম্মুখে অবস্থিত ভাই ভাই হার্ডওয়ারে চুরির কাজে ব্যবহৃত স্ক্রু ড্রাইভার ও স্লাইরেঞ্জ কিনতে গিয়ে আটক হয় কথিত মামা-ভাগ্নে। আটককৃতরা হলো শ্যামনগর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের জবেদ আলী মিস্ত্রীর ছেলে আবুল খায়ের বাবু (২৭) ও একই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৪)। পরবর্তীতে জনতার জিজ্ঞাসাবাদে চুরির সাথে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করে ভাগ্নে আরিফুল ইসলাম। কিন্তু উত্তেজিত জনতা পিটুনি দিলেও মুখ খোলেনি ধুরন্ধর চোর আবুল খায়ের বাবু। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’চোরকে আটক করে চিকিৎসার জন্য রাতে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। মঙ্গলবার আবুল খায়ের বাবুকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হলেও বয়স কম হওয়ার কারণে অপর চোর আরিফুলকে তার মা আয়শা খাতুনের জিম্মায় দেয়া হয়।
আবুল খায়ের বাবুর বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় ৩ টি এবং সাতক্ষীরা সদর থানায় ১ টি মামলা রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। নলতা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রায় দেড় বছর পূর্বে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া এলাকায় জমি কিনে টাইলস ব্যবহার করে একতলা বাড়ির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে আবুল খায়ের বাবু। দোতলা বাড়ির নির্মাণ কাজ চলমান আছে। এছাড়াও তার রয়েছে পালসার মোটর সাইকেল। দিনে মোটরচালিত ভ্যান চালিয়ে চুরির সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করে ওই চোর। পরে সুযোগ বুঝে সে এবং অন্যান্য সহযোগীরা সুচারু ভাবে চুরির কাজ করে। মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে নলতার ইছাপুর, টাউনপাড়া, স্বর্ণকার পাড়া, নলতা চৌমুহনী এলাকার কয়েকটি সুরক্ষিত বাড়িতে চোরচক্র অভিনব কায়দায় প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আটক চোরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চোর সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদের চিহিৃতপূর্বক তাদেরকে আটক এবং লুট হওয়া মালপত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকার সচেতন মহল।
