গাজী আসাদ: সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে চলমান ১১ দিনব্যাপী ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চ’ বই মেলার দ্বিতীয় দিনে বই প্রেমী ও দর্শনার্থীদের বেশ উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। মেলায় যেন সকলেই প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। শুক্রবার (৮ মার্চ) ছুটির দিন হওয়ায় মেলাকে ঘিরে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল বই প্রেমীদের মাঝে।
বইমেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। ছুটির দিন হওয়ায় মেলা যেন প্রাণের বই মেলায় পরিণত হয়। মেলায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, যুবক-যুবতী, নারী-পুরুষ, স্থানীয় কবি-সাহিত্যিকদের বিচরণ ছিল পড়ার মত। দর্শনার্থীরা স্টলগুলোতে বই দেখতে আবার কেউবা কিনতে ভিড় করেন।
এর মধ্যে বাংলা একাডেমির স্টলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের লোকনাট্য, উপন্যাসে প্রাচীন বাংলা, মধ্যযুগের বাংলা নাট্য, আল-বেরুনীর ভারততত্ত্ব, বাঙলার কথা, বাংলার কৃষক বিদ্রোহ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি, কোরানসূত্র, বাংলা পরিভাষা সন্ধানে, বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসসহ অসংখ্য বই পাঠকদের দৃষ্টি কেড়েছে।
এছাড়াও মুহম্মদ জাফর ইকবালে ব্লাক হোলের বাচ্চা, দীপু নাম্বর টু, জলমানব, ত্রাতুলের জগৎ, ফিনিক্স, এক ডজন একজন, জেরুসালেম, বঙ্গবন্ধু ইয়াসির আরাফাত, ডা. মাহাথির মোহাম্মদ, নেলসন ম্যান্ডেলা, ইন্দিরা গান্ধিসহ বিশিষ্টজনের জীবনী ও তাদের লেখা বই, গোয়েন্দা কাহিনী, ভূতের গল্প, শিশুতোষ বইসহ অসংখ্য বই উঠেছে মেলায়। মেলার ১ম ও ২য় দিন শিশুতোষ বই বেশি বিক্রি হয়েছে।
মেলায় আগত কয়েকটি স্টলের বিক্রয় কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই দিনের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে বেচা-কেনা ভালো হবে। না কিনলেও সবাই বইয়ের সাথে পরিচিত হতে আসছে। এর মানে তারা বই কিনবে।
মেলায় ঘুরতে আসা ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রুদ্র সরকার জানায়, সে তার বাবার সাথে বই মেলায় এসেছে। আজ সে বেশ কয়েকটি ভূতের বই কিনেছে। আবার এসে বই কিনবে।
মেলায় পরিবারসহ ঘুরতে আসা রসূলপুর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, সাতক্ষীরায় এ ধরণের বই মেলা এটা প্রথম। প্রচুর বই উঠেছে। অনেক প্রকাশনীর স্টল বসেছে। সন্তানদের তাদের বই কিনে দিয়েছি। তবে বই মেলার সাথে যদি বাংলা ফোক সঙ্গীতের আয়োজন করতো তাহলে এই প্রজন্ম সেটাও জানতো। তাছাড়া এখানে যদি দেশের খ্যাতনামা লেখক-সাহিত্যিকদের আনা যেত তাহলে বই কেনার আগ্রহ বা মেলায় আসার আগ্রহ আরো বেড়ে যেত।
সাতক্ষীরার কবি ও সাহিত্যিক পল্টু বাসার জানান, সাতক্ষীরায় এর আগেও বই মেলা হয়েছে। তবে এতো বড় এবং সরাসরি প্রকাশনীর স্টল দিয়ে এটা মেলা প্রথম। এটা ভাবতেই যেন ভালো লাগছে সাতক্ষীরার মেলায় প্রচুর লেখকের বই মিলছে। তবে এই বই মেলা প্রতি বছর নিয়মিত করতে হবে। তাহলে সাতক্ষীরার মানুষের চিন্তার জগতের পরির্বতন হবে। বইয়ের চেয়ে ভালো চিন্তাশক্তি বাড়ানোর বন্ধু আর হয় না। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ এমন আয়োজন করার জন্য। আজ এই বই মেলা দেখে মনে হচ্ছে এ যেন প্রাণের মেলা বসেছে।
