শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউপির ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য সীতা রাণী বৈদ্যের বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগটি করেছেন বামনী গাইন নামে এক নারী। তিনি দেওল গ্রামের বিমল গাইনের স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার জন্য বামনী গাইন সংশ্লিষ্ট মহিলা ইউপি সদস্যের সাথে যোগাযোগ করেন। এর ২-৩ দিন পরে মেম্বরের প্রতিনিধি পরিচয়ে এলাকার দালাল হিসেবে চিহ্নিত দেওল গ্রামের সুভাষ বৈরাগীর ছেলে রতন বৈরাগী তার বাড়িতে গিয়ে মহিলা মেম্বরের কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। এ সময় বামনী অনেক কাকুতি মিনতি করে নগদে তিন হাজার টাকা দিতে সক্ষম হয়। এর কিছুদিন পরে রতন মাতৃকালীন ভাতার কার্ডের মেয়াদ বাড়ানোর নামে আবার তার নিকট থেকে দুই হাজার টাকা দাবি করে এক হাজার টাকা আদায় করেন।
এদিকে, দেওল গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে তারক মন্ডলের নিকট থেকে ৪০ দিনের কাজে সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে ২০০০ টাকা নিয়েছে সীতা রাণী বৈদ্য। এমন অভিযোগ একই গ্রামের অনন্ত মন্ডলের স্ত্রী অনিমা রাণী ও সুভাষ সরদারের স্ত্রী পাচি রাণী সরদারেরও।
এছাড়াও ইউপি সদস্য সীতা রাণীর বিরুদ্ধে বিধবাভাতা দেওয়ার নামে ওই গ্রামের সরজিতের মায়ের নিকট থেকে ২০০০ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ওই ওয়ার্ডের খুটিকাটা গ্রামের জিতেন্দ্র মন্ডলের ছেলে রতিকান্তের নিকট থেকে তার প্রতিনিধি সাধন মন্ডল ২০০০ টাকা নিয়েছেন। একই গ্রামের দিলীপ সরদারের ছেলে নিতিশ সরদারের কাছ থেকে সরকারি বরাদ্দের সোলার দেওয়ার নামে ২০০০ টাকা নিয়েছেন দালাল সাধন।
ইউপি সদস্য সীতা রাণীর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও সরকারি বিভিন্ন উপকারভোগীর তালিকা তৈরি ও কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তিনি রতন বৈরাগী, সাধন মন্ডল ও আবু সাঈদকে দিয়ে এসব উৎকোচ আদায় করছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সীতা রাণী বৈদ্য বলেন, আমি কোন টাকা নেইনি। কেউ আমার নাম করে নিলে আমি কি করব?
