ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় সিঙ্গাপুর প্রবাসী হাসান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ছুটিতে আসা সিঙ্গাপুর প্রবাসী হাসান মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতারক চক্রের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য ঐ যুবক প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আবুল হোসেন ওরফে হাসান (৩২) আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের ছদর উদ্দিন মোল্যার ছেলে।
হাসান জানায়, প্রায় ৯ বছর পূর্বে জীবিকার তাগিদে সরকারিভাবে দক্ষ ভিসায় সিঙ্গাপুর পাড়ি জমায় সে। এরই মধ্যে প্রায় ৭ বছর কেটে গেছে প্রবাস জীবন।
তিনি আরও জানান, ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুরে ছুটির দিনে বাঙালিদের মিলনস্থল মোস্তফা প্লাজায় তার সাথে পরিচয় হয় সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে ফরিদ হাসান রনির (৩৩)। দুইজনের বাড়ি সাতক্ষীরায় হওয়ায় উভয়ের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব। কিছুদিন যেতে না যেতেই হাসান ধীরে ধীরে বুঝতে পারে রনি নিজে হুন্ডি ও আদম ব্যবসার সাথে জড়িত। এসব বুঝেই হাসান অল্প দিনের ব্যবধানে রনির কাছ থেকে বন্ধুত্বের বন্ধন ছিন্ন করতে থাকে। এরই মধ্যে হাসান তার এক চাচাতো ভাইকে কুষ্টিয়ার আদম ব্যবসায়ী জনৈক নাছিরের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর নিয়ে যায়। এই সুবাদে হাসানের মাধ্যমে নাছিরের সাথে রনির পরিচয় ঘটে। রনি একদিন হাসানকে জানায়, নাছিরের সাথে রনি আদম ব্যবসা শুরু করতে চায়। কিন্তু হাসান এসব শুনে রনিকে জানায়, আমি এসবের মধ্যে থাকতে চাই না, আদম ব্যবসা অত্যন্ত খারাপ জগৎ, টাকা-পয়সা লেন-দেন করলে তোমার নিজ দায়িত্বে করতে হবে। সূত্র জানায়, হাসানকে না জানিয়ে রনি কুষ্টিয়ার নাছিরের সাথে আদম ব্যবসা শুরু করে। রনি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নাছিরের সাথে টাকা লেনদেন করতো। নাছিরের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই রনি সব সময় টাকা পাঠাতো বলে জানা গেছে।
শুধু তাই নয় রনি সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন হুন্ডি ও আদম ব্যবসা নিয়ে বাংলাদেশিদের মারপিট করার অভিযোগে সেদেশের পুলিশ তাকে ধরে জেলে দিয়ে ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।
এই রনি সম্প্রতি আশাশুনি থানায় হাসানের বিরুদ্ধে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে এগার লক্ষ টাকা আত্মসাতের একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ অভিযোগটি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই ইসমাইল হোসেনের উপর দায়িত্ব দেয়। তদন্তে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
ফরিদ হাসান রনি জানায়, হাসানের কারণে আমি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কেননা হাসানের মাধ্যমেই নাছিরের সাথে আমার পরিচয় ঘটে। ঘটনার দায় হাসান কোনভাবে এড়াতে পারে না।
হাসান জানায়, রনি এখন মাছ না পেয়ে ছিপে কামড় দিতে চাইছে। বিদেশ সংক্রান্ত ব্যাপারে টাকা লেন-দেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ ঘটনায় আমি দায়ী থাকলে আল্লাহ আমার বিচার করবেন। আমাকে নিছক হয়রানি করতেই রনি এখন মিথ্যা অভিযোগ করছে।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইসমাইল হোসেন জানায়, মৌখিক কথায় তো কোন কাজ করা যায় না। টাকা লেন-দেনের প্রমাণ বা কোন লিখিত কাগজপত্র রনি দেখাতে পারেনি। এতে পুলিশের কি বা করার আছে।
