সমীর রায়, আশাশুনি: আশাশুনি সদরের ভাঙ্গা বিলের জমির ন্যায্য হারি ও দখল ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জমি উদ্ধার ও সংগ্রাম কমিটি। শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আশাশুনি ভাঙ্গাবিল জমি উদ্ধার ও সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. তরুণ কুমার বিশ্বাস জমির মালিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে ১৬ মে ঘূর্ণিঝড়ে আশাশুনি সদরের বলাবাড়িয়া গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পরে ওয়াপদা থেকে প্রায় এক হাজার একর জমি জুড়ে রিংবাঁধ দিয়ে পানি আটকানো হয়। কিন্তু এক হাজার একর জমিতে প্রায় চার বছর যাবত জোয়ার ভাটা চলতে থাকে।
১৯৯৮ সালে খুলনা সামুদ্রিক মৎস্য প্রকল্প নামে একটি সংস্থা শর্ত সাপেক্ষে বাঁধ দিয়ে জমির মালিকদের হারি পরিশোধ করে মৎস্য ঘের করে। ২০১২ সালে সংস্থাটি ঘের ছেড়ে দিলে কিছু জমির মালিক গণঘের নাম দিয়ে উপরিউক্ত জমির একটি অংশ দখলে নিয়ে খণ্ড খণ্ড ভাবে দখলে আছে। বাকি অংশ সামিয়া ফিস নামক একটি সংস্থা ঘের করে। ২০১৭ সালে ওই সংস্থাও ঘের ছেড়ে দিলে তাদের অংশটি আরো কয়েকজন জমির মালিক তাদের অংশ ও ডিডকৃত জমি খণ্ড খণ্ড ভাবে বেঁধে নেন। তখন থেকে শতাধিক ব্যক্তি তাদের ৫-৬শ বিঘা জমির দখল ও হারি পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে বঞ্চিত জমির মালিকরা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন জানালে তিনি সরজমিন তদন্ত করেন এবং বিষয়টি নিরসন করতে একটি কমিটি গঠন করে দেন। কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। এ বছরের শুরুতে আবার আবেদন জানালে ১৪ জানুয়ারি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আরো একটি কমিটি এবং বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ঘেরের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে গণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কমিটির সদস্যবৃন্দ সরজমিনে তদন্ত করেছেন। বঞ্চিতদের জমির সমস্যা না মেটাতে একটি মহল ঘেরে ওয়াপদার সাথে সরকারি অনুমোদনহীন গেট দিয়ে পানি তুলে সঠিক মাপ জরিপ ব্যাহত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জমি ফিরে পেতে গেলে এলাকায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। তাই বঞ্চিত জমির মালিকরা যাতে বিধি সম্মতভাবে তাদের ন্যায্য জমি ফিরে পায় তার বিহীত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বঞ্চিত জমির মালিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির উপদেষ্টা নাসির উদ্দীন সরদার, সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সানা, সদস্য অরবিন্দু মন্ডল, নাছির ফরহাদ, সিদ্দিকুর রহমান সানা, সুব্রত কুমার বিশ্বাসসহ অন্যান্য জমির মালিকগণ।
