শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ, কালিগঞ্জ: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্যে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা আহবান করা হয়েছে। আর এই বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃণমূলের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে ভোটের মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন। অন্যদিকে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। এই সভায় সরাসরি ভোটদানের মাধ্যমে নেতাকর্মী ও কাউন্সিলররা দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করতে চান।
কালিগঞ্জ উপজেলার মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। দলীয় মনোনয়ন নিতে তৃণমূলের ভোটারদেরকে সাথে গণসংযোগ, পথসভা, মতবিনিময়ের মাধ্যমে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শুধু এখানেই শেষ নয় নতুন প্রজন্মের সাধারণ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রার্থীরা তুলে ধরছেন উপজেলা নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা। পঞ্চমবারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় বেশ জোরেসোরে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের ৬ নেতা।
এরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী, সদ্য প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের ছেলে ইঞ্জিনিয়র শেখ মেহেদী হাসান সুমন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মোজাহার হোসেন কান্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসেন ছোট, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শেখ আতাউর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান জামু ও আনসার উদ্দিন লাভলু।
তবে মাঠ পর্যায়ে সাঈদ মেহেদী, মেহেদী হাসান সুমন ও এনামুল হোসেন ছোটর নাম বেশি শোনা যাচ্ছে।
কুশুলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাশেদ জানান, আগামী ৪ তারিখ কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হবে। ওই সভা থেকে তৃণমূলের মতামত নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তিন জনের নাম কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। যদি সম্মিলিতভাবে সকলের মতামতের ভিত্তিতে একজন প্রার্থী সমর্থন পায় তবে তাকে একক প্রার্থী ঘোষণা করে তার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হবে। যদি সমাঝোতা না হয় তবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের ভোটের মাধ্যমে প্রথম তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। এরপর কেন্দ্র থেকে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। তবে আমরা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সিলেকশন নয় ইলেকশনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করতে চাই।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোবিন্দ মন্ডল জানান, আমরা চাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের মূল্যায়ন হোক। এজন্য সিলেকশন নয় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করতে চাই। এছাড়াও কুশুলিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু মনোনয়নপ্রার্থী ৬ জন তাই দেবহাটা উপজেলার মত একইভাবে ভোটের মাধ্যমে সবার মতামতের ভিত্তিতে এর উপযুক্ত সমাধান চাই।
