ডেস্ক রিপোর্ট: শ্যামনগরে খেলার মাঠ বাস পার্কিংয়ের স্থান হিসেবে ব্যবহার করায় রাতের আঁধারে কলাগাছ পুতে নিরব প্রতিবাদ করেছেন এলাকাবাসী। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর খেলার মাঠে কলা গাছ লাগিয়ে এই প্রতিবাদ জানান তারা।
এলাকাবাসী সূত্র জানায়, বুড়িগোয়ালিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে দীর্ঘদিন ধরে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে নীলডুমুর, দাতিনাখালীসহ গাবুরার কয়েকটি গ্রামের যুবকরা। তবে গত ২ বছর ধরে এই এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের বাস পার্কিং এর স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে একটি প্রভাবশালী মহল। একই সাথে এখান থেকে একটি মোটা অংকের টাকাও আয় করছে তারা।
কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সুন্দরবন দেখতে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০ টাকা রসিদ ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে। যাদেরকে রিসিট দেওয়া হয় তাদের রসিদে সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা সংগঠন ও তাদের লোগো ব্যবহৃত হয়েছে। উল্লেখিত রসিদে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরগুলো বুড়িগোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডলের। এখানে এই টাকা আদায়ের কাজে নিয়োজিত আছেন ফজলু নামে এক ব্যক্তি।
গত ২৫ জানুয়ারি সকালে এই মাঠে বাস প্রবেশমুখে দুটি কলাগাছ দেখতে পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, আমরা চাই না এখানে বাস রাখা হোক কিংবা দর্শনার্থীদের জন্য রান্নার ব্যবস্থা হোক। এই মাঠ যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হয় তবে আমাদের যুবকরা খেলার মাঠ হারাবে। পাশপাশি এই যুব সমাজ মাদকের করাল গ্রাসে আক্রান্ত হবার আশংকা থেকে যাবে।
এলাকাবাসী আরও জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন পূর্বে এসএম জগলুল হায়দার নিজেই উপস্থিত থেকে যুবকদের খেলাধুলায় উৎসাহ প্রদানের জন্য ক্রীড়াসামগ্রী ক্রয়ে নগদ অর্থ দান করেন।
এ সম্পর্কে জেষ্ঠ্য খেলোয়াড় সালাউদ্দীন ও সুমন বলেন, আমরা খেলাধূলা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই না। ক্রীড়াবান্ধব এই সরকার ও জগলুল হায়দার এমপির কাছে আমাদের আকুল আবেদন আমাদের এই খেলার মাঠ সংস্কার করে এই মাঠের প্রাণ ফিরিয়ে দিয়ে আমাদেরকে বিনোদনের ব্যবস্থা করে দিন।
সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থনা সংগঠনের সভাপতি, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল জানান, এটি কোন খেলার মাট না। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা। বর্ষার সময় এটি পানিতে তলিয়ে যায়। সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থনা সংগঠন এ এলাকার সকল শ্রেণির পেশার মানুষের সংগঠন। এটি সরকারের গেজেটভুক্ত সংগঠন। সুন্দরবনের উপর থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে এ মাঠে পর্যটকদের গাড়ি পার্কিং ও রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আর আগামি মিটিং এ মানি রিসিটের বিষয় ও কতগুলো গাড়ি আসলো এই সময়ে এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে।
