মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা: দেবহাটায় রাস্তার পাশের দোকানের বারান্দায় ১৫ বছর কাটিয়েছেন বৃদ্ধা ভিক্ষুক মুজুরী পরামানিক ও তার পরিবার। দিনের বেলা ভিক্ষা করে রাত কাটাতেন দেবহাটা বাজারের মোক্তারের দোকানে বারান্দায়। এভাবে প্রায় ১৫ বছর কাটানোর পর শান্তি নিবাসে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়ে এখন শান্তিতেই বসবাস করছেন তারা।
মাত্র কয়েক মাস আগের কথা, দেবহাটা উপজেলায় চলছিল ভিক্ষুক মুক্ত কার্যক্রম। ঠিক তখনই উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ-আল-আসাদের কাছে খবর আসে ভিক্ষুক মুজুরী পরামানিকের। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছুটে যান তাদের কাছে। তার দুঃখের কথা শোনেন। পরে, ইউএনওর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের পরিচালনায় পরিবারবিহীন, একেবারেই অচল, মানসিকভাবে অসুস্থ ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের জন্য শান্তি নিবাস নির্মাণ করা হয়। আর তাই সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের পাশে পারুলিয়া সরদার বাড়ির মোড়ে চার রুম বিশিষ্ট শান্তি নিবাস নির্মাণ সম্পন্ন করে প্রকৃত ভিক্ষুকদের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। আর এই শান্তি নিবাসে ঠাঁই হয়েছে মুজুরী পরামানিকের পরিবারের।
শান্তি নিবাসে ঠাঁই পাওয়া মুজুরী পরামানিক জানান, আমার স্বামীর বাড়িতে কোন জমি জায়গা ছিল না। আমি লোকের বাড়িতে বাড়িতে থাকতাম। পরে দেবহাটা বাজারে মোক্তারের দোকানের বারান্দায় থাকতাম। আমার মেয়ের দু’টা সন্তান হওয়ার পর স্বামী তাকে তালাক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। আমার মেয়ে ও তার সন্তাদের সাথে নিয়ে সেখানে অবস্থান করি। এভাবে ১৫ বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াইনি। বর্তমান ইউএনও স্যার নিজেই আমাদের খুঁজে এই শান্তি নিবাসে বসবাস করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের একটি শোওয়ার চৌকি, মাদুর, কম্বল, বালতি, মগ, জগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়েছেন। তিনি মাঝে মাঝে এসে আমাদের খোঁজ-খবর রাখেন। আমরা এমন সুন্দর জায়গায় বসবাস করার সুযোগ পেয়ে ইউএনওর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমান সরকারের ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচির আওতায় ভিক্ষুকমুক্ত কর্মকা- চলমান রয়েছে। এরই আওতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর পাশে নির্মিত ‘শান্তি নিবাস’ একটি মহৎ কাজ। তার কাজ আমি সাধুবাদ জানাই। তার মত সকলে এগিয়ে আসলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন ঘটবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ-আল-আসাদ জানান, আমি একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে সরকারের সকল নির্দেশ মেনে উন্নয়নের সহযোগী হিসাবে কাজ করছি। সরকারের ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি এমন কয়েকজনের খবর পাই যারা সমাজের একবারেই অবহেলিত ও বঞ্চিত। আমি চেষ্টা করেছি তেমনই কয়েকজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আশা করি আগামীতেও অসহায় মানুষদের জন্য কাজ করে যাব।
