ঢাকাSaturday , 26 January 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

কমছে কৃষি জমি!

admin
January 26, 2019 9:34 pm
Link Copied!

গাজী আসাদ: জেলায় কৃষি জমি আশংকাজনক হারে কমছে। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বাড়িঘর নির্মাণ, জলাভূমি ভরাট, ইটভাঁটা নির্মাণ, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন কারণে কমছে কৃষি জমি। এতে খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও তা আপাত দৃষ্টিতে কারও চোখে ধরা পড়ছে না। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বলে সাময়িকভাবে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, এমনকি উদ্বৃত্ত দেখানো হলেও কৃষি জমি কমে যাওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন আশংকাজনকহারে কমবে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি জমি সুরক্ষা আইন থাকলেও তা না জানা ও তার যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় হুমকিতে রয়েছে কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনযাপন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জেলা সদরের পৌরসভাসহ আশেপাশের এলাকায় কৃষি জমিতে হু হু করে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর। সাতক্ষীরা পৌর এলাকার রাজার বাগান, রথখোলা বিল, কাটিয়া, গদাই বিল, উত্তর কাটিয়া, বিনেরপোতা, কামালনগর, পলাশপোল, সবুজবাগ, সার্কিট হাউজ এলাকা, বাঁকাল, পুরাতন সাতক্ষীরা, বাগান বাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গেল কয়েক বছরের অস্বাভাবিকভাবে কৃষি জমিতে অপরিকল্পিত বাড়িঘর ও দালানকোটা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কৃষি জমি হ্রাসের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে জলাবদ্ধতাসহ শহর কেন্দ্রিক নানা সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে।
শুধু জলাবদ্ধতা বা ভবন নির্মাণ নয়, আবাদি জমিতে ইটভাটা নির্মাণেও কমছে কৃষি জমি। জেলায় কৃষি জমিতে একের পর এক ইটভাটা গড়ে ওঠায় শংকিত হয়ে পড়েছে কৃষকরা। ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসলহানিসহ ভাটায় ব্যবহৃত মাটি ফসলি জমি থেকে সংগ্রহ করায় উৎপাদন আশংকাজনকভাবে কমছে। অদৃশ্য কারণে আইন অমান্য করে এসব ভাটার অনুমতি দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় ১১৮টি ইট ভাটার অনুমতি রয়েছে। যার সবগুলোই কৃষি জমিতে। কৃষি জমি সুরক্ষা আইনে এইভাবে ইটভাটা নির্মাণের সুযোগ না থাকলেও অদৃশ্য কারণে এসব ভাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জেলার আশশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও তালা উপজেলার বিরাট অংশে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে এসব এলাকা ছেড়ে মানুষ শহরমুখি হচ্ছে। ফলে জেলা সদরের কৃষি জমিতে হু হু করে গড়ে উঠছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন।
সাতক্ষীরা সদরের জেয়ালা গ্রামের কৃষক এমাদুল হক জানান, তিনি প্রায় ৩০ বছর কৃষি পেশার সাথে যুক্ত। কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু গেলো এক দশকে তার এলাকায় আশংকাজনকভাবে কমেছে কৃষি জমি। আর যেসব কৃষি জমি আছে তাতে জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও চিংড়ি চাষের জন্য ঘের করায় বছরের অধিকাংশ সময় পতিত থাকছে। তিনি আরো জানান, তিনি তার নিজ জমিসহ লীজ নিয়ে তার এলাকার অনেক জমিতে তিন ফসল চাষাবাদ করতেন। কিন্তু বর্তমানে অনেক জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ হয়ে গেছে। এখন কোন মতে এক ফসল করা হয়। এর ফলে অনেকেরই অভাব-অনাটনে পড়তে হচ্ছে।
সদর উপজেলার বেড়াডাঙ্গী গ্রামের অনিল কৃষ্ণ সরকার জানান, গেল ৮-১০ বছর এলাকার অধিকাংশ কৃষি জমি বছরের ৮-১০ মাস জলাবদ্ধ থাকে। এতে তাদের জমি অনাবাদি থাকে। অপরিকল্পতিভাবে কৃষি জমিতে বাড়ি ও ইটভাটা নির্মাণের কারণে এবং বেতনা নদী মরে যাওয়ায় তাদের এলাকায় জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হয়। আর এই অবস্থার কারণে কৃষি কাজ করতে না পেরে তাদের এলাকার অনেকেই অন্যত্র চলে গেছে।
এদিকে, কৃষি জমি সুরক্ষা আইনের ৪ (১) নং ধারায় বলা হয়েছে, কোন কৃষিজমি নষ্ট করে ইটের ভাটা স্থাপন করা যাবে না।
৪ (১) নং ধারায় বলা হয়েছে, দেশের সকল খাসজমি কেবল ভূমিহীনরা পাইবার এবং ভোগ দখলে রাখিবার অধিকারী হইবেন। তবে খাস কৃষিজমি কৃষিকাজ ব্যতীত অন্যকোন কাজে ব্যবহার করা যাইবে না। তবে ভূমিহীন ব্যতীত কৃষি খাস জমি অন্য কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হইয়া থাকিলে উহা বাতিল করিতে হইবে।
আইনের ৪ (১) নং ধারায় আরও বলা হয়েছে, দুই বা তিন ফসলী জমি সরকারি-বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের জন্যই কোনভাবেই অধিগ্রহণ করা যাইবে না।
আইনের ৪ (২) নং ধারায় বলা হয়েছে, ভূমির অপচয় রোধকল্পে জমির অধিগ্রহণ ন্যূনতম পর্যায়ে রাখিতে হইবে এবং অধিগ্রহণকৃত জমির অপব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করিতে হইবে।
কৃষি জমি সুরক্ষা আইনের ৪(১), ৪(২) ধারা অথবা অন্য কোন ধারার বর্ণিত বিধান কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অমান্য বা লংঘন করিলে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেই হউন না কেন, নিজ বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ব্যক্তিবর্গ কিংবা তাঁহার/তাঁহাদের সহায়তা প্রদানকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ সর্বোচ্চ ০৩ (তিন) বছরের সশ্রম কারাদ- বা সর্বনিম্ন ০৩ (তিন) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দ-িত হইবেন এবং বর্ণিত কৃষি জমি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হইবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষক জোটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী জানান, সাতক্ষীরা জেলায় আশংকাজনকভাবে কৃষি জমি কমছে। চিংড়ি চাষ, ইটভাটা, বাড়িঘর নির্মাণের ফলে কৃষি জমি থাকছে না। শুধু তাই নয় অপরিকল্পিতভাবে ঘের ও বাড়িঘর নির্মাণের ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে অনাবাদি থাকছে প্রচুর জমি।
তিনি আরো জানান, ভূমি আইন ও কৃষি জমি সুরক্ষা আইনে কৃষি জমির অপব্যবহার বন্ধে স্পষ্ট বিদান আছে। কিন্তু তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। শুধু তাই নয় খোদ প্রশাসনই এই আইন মানছেন না। বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য কৃষি জমি অধিগ্রহণ করছে। এর ফলে কমছে কৃষি জমি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।