তালা প্রতিনিধি: তালায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফঁভসানো চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ গ্রামে।
বালিয়াদহ গ্রামের মৃত দবির উদ্দীন গাজীর দুই ছেলে মনছোপ গাজী ও আ. রহমান গাজী ১৯৮৫ সালে ১৯১৭ নং দলিলে মাদার ফকির এবং ছুরোত গাজীর নিকট থেকে খলিশখালী মৌজার ১৬৪৪৩ চিহ্নিত দাগের ৩৭ শতক জমি ক্রয় করে নামপত্তন এবং খাজনা পরিশোধের দাখিলা ও বর্তমান জরিপের রেকর্ড প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ভোগ দখল করে আসছেন। সম্প্রতি একই গ্রামের মৃত মফেজ ফকিরের ছেলে আলিম ফকির গং ১৯৯০ সালের একটি দলিল দেখিয়ে জোরপূর্বক তা ভোগ-দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। এঘটনায় বালিয়াদহ গ্রামের মৃত মফেজ ফকিরের ছেলে আলিম ফকির বাদী হয়ে মনছোপ গাজীসহ তিন জনকে বিবাদী করে করে তালা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। যার নং-৩৯৫, তারিখ-১২/১০/১৮।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আলিম ফকির ও কামরুল ফকিরের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে বিবাদী মনছোপ গাজী গং গত বছরের ১১ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে আলিমের বাড়িতে ঢুকে খুন-জখম করতে আসে। ঐ সময় তার চিৎকারে সাক্ষী বাগমারা গ্রামের জলিল ও বালিয়াদহ গ্রামের মহাসিন সরদার ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। যে জিডিটি আদালতে পাঠান তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ফলে বিজ্ঞ আদালত থেকে তালা থানায় তদন্তের নির্দেশ আসে। এই অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তালা থানার এএসআই মনিরুজ্জামান শেখ। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শুধুমাত্র সাক্ষীদের মুখ থেকে শুনে বিজ্ঞ আদালতে একটি প্রতিবেদন পেশ করেন। যা ওই দিনে আলিম ফকিরের বাড়িতে আদৌও ঘটেনি। এমন প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদী মনছোপ গং ফাঁসতে বসেছে মিথ্যা মামলায়।
সরেজমিনে কথা হয় বালিয়াদহ গ্রামের মৃত মকবুল সরদারের স্ত্রী কাঞ্চন বেগম, নাজের গাজীর স্ত্রী আলেয়া বেগম, মালেক সরদারের স্ত্রী রিজিয়া বেগম, মৃত সুরোত গাজীর ছেলে শাহিন, মকলন্দকাটী গ্রামের মৃত আজগর শেখের ছেলে নুরুদ্দীন শেখসহ অনেকের সাথে। তারা জানান, বিগত কয়েক মাসের মধ্যে মনছোপ ও আলিম ফকিরের সাথে এমন কোন ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি। তারা অভিযোগ করেন, মোনছোপ জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ভোগ-দখল করে আসছে। সে কেন আলিম ফকিরের বাড়িতে প্রকাশ্যে দিবালোকে আলিমকে খুন-জখম করতে যাবে। ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। মনছোপকে ফাঁসাতে এমন একটি মিথ্যা অভিযোগ লিখে সাধারণ ডায়েরীভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তের বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান, একদিন পুলিশ এসেছিলো আলিমদের বাড়িতে। ওদের সাথে কথা বলে আবার চলে গেছে।
এঘটনায় আলিম ফকিরের নিকট সাধারণ ডায়েরী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কিছু জানি না। আমার বাড়িতে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে দোহার গ্রামের কেউ আমার নাম উল্লেখ করে এই জিডি করতে পারে। মনছোপ কোনদিন আমার বাড়িতে আসেনি। তবে অন্য লোকের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মনিরুজ্জামান শেখ জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
