সৌমেন মজুমদার, তাল: তালায় ঘনবসতিপূর্ন এলাকা ও আবাদ জমিতে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ”রিয়া ব্রিকস” নামে ইট প্রস্তুত কারখানা (পাজা) স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। জন বসতিপূর্ণ, ফসলের ক্ষেত ও ঘন অরণ্যের মধ্যে স্থাপিত ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উর্বর ফসলি ক্ষেতের মাটি কেটে ইট প্রস্তুত ও তা পোড়াতে ব্যাপকভাবে কাঠ পোড়ালেও স্থানীয় প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে কোন ভূমিকা নিচ্ছে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) বিকালে তালা সদর ইউনিয়নের আটারই গ্রামে ভেড়ার মাঠের রিয়া ব্রিকস গেলে দেখা যায়, ইট ভাটার চারপাশে ঘন সবুজ ফলদ-বনজ বৃক্ষরাজি, ফসলের ক্ষেত, পানের বরজ ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা। ভাটার মালিক স্থানীয় আটারই গ্রামের আবুল সরদারের ছেলে হালিম সরদার পাশ্ববর্তী আগলঝাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি লীজ নিয়ে গড়ে তুলেছেন ঐ ভাটা।
এলাকাবাসী জানায়, হালিম সরদার প্রায় বছর খানেক সেখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ইট ভাটা গড়ে তোলায় ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। ফসলের ক্ষেত, বৃক্ষরাজি, পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি সাধনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ মারাতœক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। এব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সরকারি নীতিমালা বা ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুযায়ী ইট পোড়াতে কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন হলেও তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইট পোড়াতে কয়লার পরিবর্তে শুধুমাত্র কাঠ ব্যবহার করে রীতিমত বৃক্ষ নিধনে মেতে উঠেছেন।
এসময় ভাটার অনুমতি বা লাইসেন্স বলতে তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন বলেও জানান। বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যৌথ মালিকানায় ভাটা স্থাপন করেছি।
এ ব্যাপারে তালা উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, যদি কেউ অনুমতিহীন ইটভাটা পরিচালনা করে পরিবেশ দূষণ করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
