এস.এম নাহিদ হাসান: মোছা: জ্যোৎস্না আরা। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। নবারুণ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন তিনি।
১৯৯০ সালে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৯২ সালের সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়কের দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৯৩ সালে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের ৪নং কার্য নির্বাহী সদস্য, ১৯৯৪ থেকে ৯৬ পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের ছাত্রী বিয়ষক সম্পাদক হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালীর করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। পরে যুক্ত হন যুবলীগের রাজনীতিতে। ১৯৯৭ সালে সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০০১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা আলোড়ন সৃষ্টি করে। ২০১৭ সালে তিনি কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
মাঠ পর্যায়ের রাজনীতির পাশাপাশি তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও এ অঞ্চলের মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ২০১১ ও ২০১৫ সালে সাতক্ষীরা পৌরসভার সংরক্ষিত (১, ২ও ৩ নং ওয়ার্ড) মহিলা কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর জামায়াত-শিবির তার বাড়ি ঘর ও ধানের গাদায় আগুন দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করে।
জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মোছা: জ্যোৎস্না আরা একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ প্রসঙ্গে তিনি কথা বলেছেন দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরার সাথে।
তিনি বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমার রাজনীতিতে আসা। মানুষের অধিকার আদায়ে আমি সমসময় অনড় থেকেছি। বাস্তবে দেখেছি মানুষ কি চায়। বুঝেছি সাধারণ জনগণের সাথে মিলেমিশে কাজ করলে মানুষ ভালবাসে। আমাদের জাতির পিতা সব সময় মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। এই বাংলাকে সোনার বাংলা করার স্বপ্ন তার সব সময় তাড়া করেছে। আমি সেই আদর্শ নিয়ে চলেছি, চলি।
বর্তমানেও কাউন্সিলর হিসেবে এলাকার মানুষের সুখে দুখে বিপদে আপদে পাশে থাকি। আমার রাজনৈতিক কর্মকা- ও মানুষের ভালবাসা সাংসদ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে। নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে সাতক্ষীরার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করবো। সুশিক্ষা, চিকিৎসা, বাল্য বিবাহ বন্ধ, বেশি বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো। সঠিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো, কুসংস্কার দূরীকরণ, মাদকের হাত থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করাসহ সকলের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুন্দর সাতক্ষীরা গড়ে তুলতে চাই। আমি বর্তমানে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখবো। সর্বোপরি রাজনীতিতে গুণগত টেকসই পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটাতে চাই। সাতক্ষীরাবাসী আমার সাথে থাকলে আমি সাতক্ষীরার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবো বলে আশা রাখি। আমি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।
