এস.এম নাহিদ হাসান: চৌধুরী নূরজাহান মঞ্জুর। ২০০৪ সালে চাঁদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০৬ সালে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে। ছাত্রজীবনে বিএনসিসিসহ স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চাইবেন চৌধুরী নূরজাহান মঞ্জুর।
এ প্রসঙ্গে চৌধুরী নূরজাহান মঞ্জুর বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হলে জনগণের জন্য যতটা করা যায় তার সবই আমি নিষ্ঠার সাথে করবো। তবে দায়িত্বের বাইরেও নিজ উদ্যোগে নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষভাবে নজর দেবো। আর অবকাঠামোগত উন্নয়নই তো আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত। সেদিকে অবহেলা করার কোন সুযোগই নেই। সাতক্ষীরার নারী সমাজকে যাতে অপসংস্কৃতি সাম্প্রদায়িকতা-অনাচার-উচ্ছৃঙ্খলতা স্পর্শ করতে না পারে, তার জন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সাতক্ষীরার নারী সমাজের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জাগ্রত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করতঃ দারিদ্র্যের সংস্কৃতি থেকে তাদেরকে বের করে আনতে চাই। পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকা- চর্চার মাধ্যমে সাতক্ষীরা হতে সকল কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতি দূর করতঃ সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিক দারিদ্র্য নির্মূল করতে চাই। ৫ বছরের মধ্যে সাতক্ষীরার শতভাগ নারীর যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবো ইনশাল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারায় একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকাটাই স্বাভাবিক। কেউই অযোগ্য নন। তবে আমি আমার স্বামীর সাথে মাঠ পর্যায়ে থেকে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করি।
সকলের কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, পারিবারিকভাবেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বেড়ে উঠেছি। ২০১৩-১৪ সালে সাতক্ষীরায় থাকাকালে সকলের অগোচরেই সম্পৃক্ত হই সাতক্ষীরা পৌর যুবলীগের রাজনীতির সাথে।
তিনি আরও বলেন, প্রগতিশীল ধ্যান-ধারণা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমগ্র সাতক্ষীরাবাসীকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী হিসেবে আমি বিজয় মেলা, স্বাধীনতা মেলা, বৈশাখী মেলাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ নানাবিধ জাতীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানাদি আয়োজনের মাধ্যমে সাতক্ষীরায় সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম।
প্রসঙ্গত, চৌধুরী নূরজাহান মঞ্জুর সাতক্ষীরার সাবেক পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীরের স্ত্রী। মি. চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর বর্তমানে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক হিসেবে মিরপুরে কর্মরত আছেন।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে একের পর এক খুনসহ নানাবিধ সন্ত্রাসী কর্মকা-ের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর পুলিশ সুপার হিসেবে সাতক্ষীরায় যোগদান করেন এবং সমগ্র সাতক্ষীরার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফলশ্রুতিতে সাতক্ষীরা জেলায় বিন্দুমাত্র সহিংসতা ছাড়াই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ইতোমধ্যে, চৌধুরী নূরজাহান মঞ্জুরসহ তার পরিবার সাতক্ষীরায় সেটেল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
