এস.এম নাহিদ হাসান: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ (আংশিক) উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৪ আসনে নৌকা, ধানের শীষ ও কুলা প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি- নির্বাচনের মাত্র একদিন হাতে রেখেই সর্বত্র এ আলোচনায় চায়ের কাপে উঠছে ঝড়। একই সাথে উঠে আসছে প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন, হামলা-মামলা, ভাঙচুর-লুটপাটের কথাও।
নির্বাচনের মাত্র একদিন হাতে রেখে সাধারণ মানুষ করছে চুল চেরা বিশ্লেষণ। কোন প্রার্থীর কি যোগ্যতা, কোন প্রার্থী এলাকার জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে, কে ভাল, কে মন্দ- তা নিয়ে আলোচনার যেন অন্ত নেই।
সাতক্ষীরা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য স ম জগলুল হায়দার, ধানের শীষ নিয়ে সাবেক এমপি জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম, বিকল্পধারার কুলা প্রতীক নিয়ে সাবেক এমপি এইচএম গোলাম রেজা, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে আব্দুস সাত্তার মোড়ল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাত পাখা প্রতীক নিয়ে আব্দুল করিম ও বাঘ প্রতীক নিয়ে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের রবিউল ইসলাম জোয়ারদার ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।
এই আসনে মহাজোট একক প্রার্থী নির্ধারণে ব্যর্থ হওয়ায় ভোটের জটিল সমীকরণ তৈরি হলেও প্রচারণায় এগিয়ে আছেন নৌকার স ম জগলুল হায়দার। তবে, পিছিয়ে নেই বিকল্পধারার কুলা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম রেজাও। আর ধানের শীষের প্রার্থী গাজী নজরুল রয়েছেন কারাগারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী স ম জগলুল হায়দার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। ব্যানার, পোস্টার, মাইকিং, পথসভায় তুলে ধরছেন সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-। তার জয় নিশ্চিতে বিভেদ ভুলে এক মঞ্চে উঠছেন শ্যামনগর-কালিগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
অপরদিকে, কুলা প্রতীকের প্রার্থী বিকল্পধারার এইচএম গোলাম রেজাও পিছিয়ে নেই গণসংযোগে। হামলা-মামলার শিকার হলেও নিজ নিজ কর্মী সমর্থকদের নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ। নবম জাতীয় সংসদের এমপি থাকায় এলাকায় তার পূর্ব পরিচিতি রয়েছে। সেসময় কৃত উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে তিনি ভোট প্রার্থনা করছেন।
এদিকে, ২০ দলীয় জোটের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম রয়েছেন কারাগারে। তার কর্মী-সমর্থকদের মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
আর প্রথমে কিছু পোস্টার ফেস্টুন টানালেও বেশ কিছু দিন মাঠে দেখা যাচ্ছে না জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুস সাত্তার মোড়লকে।
অন্যদিকে, পোস্টারিং, মাইকিং, পথসভার মধ্যদিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল করিম নির্বাচনের মাঠে থাকলেও মাঠে নেই বাঘ প্রতীকের রবিউল ইসলাম জোয়ারদার।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাতক্ষীরা-৪ আসনে কুলা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি এইচএম গোলাম রেজা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী স ম জগলুল হায়দারের গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছেন। এলাকায় ধানের শীষের প্রচার দিতে ব্যর্থ হওয়া মানুষ এখন কুলা প্রতীকের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।
আবার, স্থানীয়দের ধারণা, এখন কুলা প্রতীকের পক্ষ নিলেও জামায়াত-বিএনপির সমর্থকরা ধানের শীষ ছাড়বে না। সেক্ষেত্রে কারাগারে থাকা গাজী নজরুল ইসলামও এগিয়ে যেতে পারেন।
যদিও অনেকেই মনে করছেন, আগামীতেও সরকার গঠন করবে আওয়ামী লীগ। তাই ধানের শীষ বা কুলা প্রতীক নয়, শেষ পর্যন্ত জয় হতে পারে নৌকার স ম জগলুল হায়দারের।
আর জাতীয় পার্টির আব্দুস সাত্তার মোড়লের নেতিবাচক ইমেজ এবং হাতপাখা ও বাঘ মার্কার প্রার্থীদের দলীয় ভোট না থাকায় তারা ভোটের লড়াইয়ে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারবেন না বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
সবমিলিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনে স ম জগলুল হায়দার, এইচএম গোলাম রেজা ও গাজী নজরুলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখছেন সকলেই।
প্রসঙ্গত, জেলার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৪ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৯ জন।
