পারুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: ব্রয়লার-লেয়ার পোল্ট্রি মুরগির চাষ ও ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে বেকারত্বের অভিশাপ ঘুচিয়ে সামান্য দিনমজুর থেকে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন দেবহাটার শরিফুল ইসলাম। মুরগির বাচ্চা, খাবার ও ওষুধ সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তারই মালিকানাধীন গাজী পোল্ট্রি ফিড নামে প্রতিষ্ঠান।
দেবহাটার উত্তর পারুলিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম পেশায় ছিলেন একজন দিনমুজুর। বাবা-মা ও ছয় ভাইবোনের সংসারে প্রতিনিয়ত অভাবের যন্ত্রণা থাকায় ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও স্কুলে যেতে পারেননি। ফলে অনেক কম বয়সেই সংসারের দায়িত্ব নিয়ে তিনি দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। পরে খুলনার চিংড়ি সরবরাহকারী জেমিনি ফিস নামে এক কোম্পানিতে রিসিভ গ্রেডার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন কিছুদিন। সেখান থেকে ফিরে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তায় ১৫টি পোল্ট্রি মুরগি দিয়ে বাড়িতেই খামার স্থাপন করেন। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার। বর্তমানে তার ২০টি খামার রয়েছে। আর এসব খামারে বর্তমানে ২২শ’ লেয়ার এবং ২০ হাজার সোনালী মুরগি পালন করছেন তিনি। বর্তমানে তার খামরে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার ডিম উৎপাদন ও সরবরাহ হচ্ছে। এখন তার খামারে দৈনিক সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ডিম উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে দৈনিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকায়। সফল এই খামারী নিজের মাত্র দেড় কাঠা জমির বসতভিটা থেকে এখন তার বসত ভিটার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ কাঠায়। সাথে সাথে মুরগি খামারীদের মাঝে উন্নতমানের মুরগির বাচ্চা, পুষ্টিকর বিভিন্ন খাবার ও ওষুধ সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তারই মালিকানাধীন গাজী পোল্ট্রি ফিড নামে প্রতিষ্ঠান এবং মুরগি-ডিম, খাদ্য ও ওষুধপত্র সরবরাহের জন্য রয়েছে তার নিজস্ব ট্রাক।
সফল খামারী শরিফুল ইসলাম জানান, মাত্র ১৫টি পোল্ট্রি মুরগি দিয়ে অতি স্বল্প পরিসরে বাড়িতেই খামার স্থাপন বর্তমানে আমার অনেকগুলো খামার। সেখান থেকে প্রতিদিন আয় হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। চেষ্টা ও অধ্যাবসায় থাকলে অনেক কিছু সম্ভব। বেকার যুবকরা চাকরির জন্য বসে না থেকে এমন ছোট ছোট ব্যবসা করলে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব।
